আদিত্য ধর পরিচালিত ‘ধুরন্ধর’ ছবির হাত ধরে এই মুহূর্তে ব্যাপক আলোচনায় অক্ষয় খান্না। দীর্ঘদিন বলিউডে কাজ করলেও নায়ক হিসেবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য তার ঝুলিতে ধরা দেয়নি। তবে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তার অভিনয় বরাবরই প্রশংসিত। সেই সাফল্যই যেন এবার নতুন করে কয়েকগুণ বেড়ে ধরা দিয়েছে অক্ষয়ের কাছে।
এর মধ্যেই বলিপাড়ার অন্দরমহলে ফের শোনা যাচ্ছে এক পুরনো কানাঘুষা। দাবি করা হচ্ছে, এমন একটি ছবির সুযোগ একসময় অক্ষয়ের কাছে এসেছিল, যা তার ক্যারিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারত। কিন্তু আমির খানের কারণে নাকি সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায় তার।
ফারহান আখতারের ‘দিল চাহতা হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের সময় থেকেই আমির খান ও অক্ষয় খান্নার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ছবিটি মুক্তির পর সাইফ আলি খান ও অক্ষয়ের তুলনায় আমিরই বেশি প্রশংসা কুড়ান দর্শকদের কাছ থেকে। অক্ষয়ের অভিনয় প্রশংসিত হলেও তাঁকে অনেকেই পার্শ্বচরিত্র হিসেবেই দেখেছিলেন।
এই ছবির প্রায় চার বছর পর ‘তারে জামিন পার’ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন অমোল গুপ্ত। ছবিতে এক সংবেদনশীল শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন অক্ষয় খান্না।
কিন্তু অভিনেতার ফোন নম্বর না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না অমোল।
অমোলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আমির খান। সেই সূত্রেই অমোল তাঁর কাছে অক্ষয়ের ফোন নম্বর চান। কিন্তু নম্বর দেওয়ার বদলে আমির জানতে চান, কেন অক্ষয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান তিনি। তখন অমোল পুরো ছবির ভাবনা, চিত্রনাট্যের খসড়া এবং নিজে পরিচালনা করার ইচ্ছার কথা আমিরকে জানান।
চিত্রনাট্য পড়ে ছবির গল্প আমিরের পছন্দ হয়ে যায়। এরপর তিনি অমোলকে অনুরোধ করেন, অক্ষয়ের বদলে যেন তাঁকেই শিক্ষকের চরিত্রে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ছবিটি বাস্তবায়িত হয়, তবে তাতে আর অক্ষয়ের জায়গা হয়নি। ‘তারে জামিন পার’ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় দেখা যায় আমির খানকেই।
বলিপাড়ার একাংশের মতে, আমির আগেই বুঝেছিলেন ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পাবে। তাই কোনওভাবেই এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি তিনি। সেই কারণেই নাকি অক্ষয়ের কাছ থেকে ছবিটি কার্যত কেড়ে নেন আমির।
যদিও পরে এক সাক্ষাৎকারে আমির খান নিজেই জানান, চিত্রনাট্য পড়ে তার মনে হয়েছিল, এই চরিত্রটি তিনি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।
তার মতে, অমোল গুপ্ত পরিচালনার জন্য তখনও প্রস্তুত ছিলেন না। সেই সময় অমোলের কাছ থেকে গল্পটি কিনে নেন আমির, আর তারপরেই ছবির পরিচালনার দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নেন।
‘তারে জামিন পার’ মুক্তির পর অক্ষয় খান্নার সঙ্গে দেখা করে পুরো ঘটনাটি তাকে খুলে বলেন আমির। সব কিছু জানার পরেও অক্ষয় নাকি আমিরের উপর কোনও রাগ বা ক্ষোভ পোষণ করেননি।







