সুইজারল্যান্ডের অভিজাত স্কি রিসোর্ট ক্রাঁস-মনতানায় নববর্ষের রাতে বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তবে দগ্ধ মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
‘লে কন্সটেলেশন’ বারে জড়ো হওয়া অধিকাংশই তরুণ উদযাপনকারীদের দগ্ধ হওয়ার মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে, সুইস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনে নিহতদের সবার নাম প্রকাশ করতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। এ ঘটনায় আরো শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই গুরুতর।
নিখোঁজ তরুণদের অভিভাবকরা প্রিয়জনদের খোঁজে আকুতি জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসও তৎপর হয়ে উঠেছে, তাদের কোনো নাগরিক এই ভয়াবহ ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন কি না তা জানতে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রাঁস-মনতানার মেয়র নিকোলা ফেরো বলেন, প্রথম লক্ষ্য হলো সব মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা। এ কাজে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ভ্যালাই ক্যান্টনের সরকারপ্রধান মাথিয়াস রেনার্ড বলেন, মরদেহ শনাক্তে দাঁতের নমুনা ও ডিএনএ পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তথ্য এতটাই ভয়াবহ ও সংবেদনশীল যে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলোর কাছে কিছুই বলা যাবে না। তাই এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হচ্ছে।
ইতালি ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তাদের কিছু নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি শুক্রবার ক্রাঁস-মনতানা সফর করবেন বলে জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডে ইতালির রাষ্ট্রদূত জিয়ান লরেঞ্জো কর্নাদো। অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, তাদের একজন নাগরিক এ ঘটনায় আহত হয়েছেন।
সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪০। তবে ইতালি সুইস কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে মৃতের সংখ্যা ৪৭ বলে উল্লেখ করেছে।
রাষ্ট্রদূত কর্নাদো জানান, ১১২ জন আহতের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ছাড়া বাকি সবাই এখন শনাক্ত হয়েছেন।
ছয়জন ইতালীয় এখনো নিখোঁজ এবং ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। বৃহস্পতিবার তিনজন ইতালীয়কে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং শুক্রবার আরো তিনজনকে পাঠানো হবে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, মরদেহগুলোর অনেকটাই মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের নাম প্রকাশ বা চূড়ান্ত মৃত্যুসংখ্যা নির্ধারণে সময় লাগবে।







