৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল আরও দুই ইউরোপীয় দেশ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল আরও দুই ইউরোপীয় দেশ

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়

ইউরোপের ভূরাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও নরওয়ের পর আজ ৪ জুন, ২০২৬ ইউরোপের আরও দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অফিশিয়াল স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মাঝে ইউরোপের হেভিওয়েট দেশগুলোর এই সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই কূটনৈতিক স্বীকৃতির ফলে বিশ্বমঞ্চে ফিলিস্তিনের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো, যা নিঃসন্দেহে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রযুক্তি ও তথ্যের এই যুগে যেখানে বিশ্ব কূটনীতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোর এই অনড় অবস্থান ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই ঐতিহাসিক ঘোষণা জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদের দাবিকে আরও জোরালো করবে।

আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও নরওয়ের পর নতুন দুই দেশের সাহসী পদক্ষেপ

গত মাসেই আয়ারল্যান্ড, স্পেন এবং নরওয়ে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ ইউরোপ মহাদেশের আরও দুটি বড় পরাশক্তি একই পথে হাঁটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিল। এই দেশগুলোর সরকার প্রধানেরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র উপায় হলো দ্বি-রাষ্ট্র নীতি  বাস্তবায়ন করা। ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে নেওয়া এই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তটিকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা স্বাগত জানিয়েছেন এবং একে ফিলিস্তিনি কূটনীতির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় বলে আখ্যা দিয়েছেন।

জাতিসংঘে পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদের দাবি হবে আরও জোরালো

ফিলিস্তিন দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে থাকলেও পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ পাওয়ার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। আজ ইউরোপের আরও দুটি প্রভাবশালী দেশের এই অফিশিয়াল স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের সেই দাবিকে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মধ্যে এক বিশাল শক্তি জোগাল। নিরাপত্তা পরিষদ এবং সাধারণ পরিষদে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের  গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো যখন একের পর এক ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে শুরু করেছে, তখন জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ পাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতি বিশ্ব রাজনীতিতে ফিলিস্তিনের জন্য আরেকটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় নিশ্চিত করল।

সিলিকন ভ্যালি থেকে ব্রাসেলস: বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

আজ ৪ জুনের এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পর থেকেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদর দপ্তরে এই নিয়ে জরুরি আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেও ইউরোপের সাধারণ জনগণ এবং এশিয়-আরব বিশ্বের দেশগুলো একে স্বাগত জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এখন কেবলই এই আলোচনার ঝড় বইছে। পরাশক্তিদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ইউরোপের বুক থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে এমন রায় আসা মূলত বিশ্বজনমতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

আরো পড়ুনঃ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উৎসবের আমেজ, তিল ধারণের ঠাঁই নেই

ইসরায়েলের ওপর বাড়ছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ

ইউরোপের এই নতুন স্বীকৃতির ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমান্বয়ে একঘরে হয়ে পড়ছে। গাজায় চলমান মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক আদালতের  নির্দেশনা উপেক্ষা করার কারণে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিল। ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো এখন ফিলিস্তিনের সাথে সরাসরি রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই পরিবর্তিত হবে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় নিয়ে এলো।

দ্বি-রাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে ইউরোপের নতুন রোডম্যাপ

আজকের এই ঘোষণার পর ইউরোপীয় দেশগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কেবল মৌখিক সহানুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করার জন্য তারা একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করছে। এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনেও ইউরোপ বড় ভূমিকা রাখবে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এই বাস্তবমুখী আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা মূলত স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়, যা শান্তি আলোচনার পথকে আরও সুগম করবে।

গাজার সাধারণ মানুষের মনে আশার আলো

দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধ, অবরোধ আর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে থাকা গাজা ও পশ্চিম তীরের সাধারণ ফিলিস্তিনিদের কাছে আজ ৪ জুনের এই খবরটি এক পশলা বৃষ্টির মতো এসেছে। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের মতে, সামরিকভাবে তারা অবরুদ্ধ হলেও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশ্ব তাদের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে, যা তাদের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করছে। বিশ্বমঞ্চে তাদের এই নৈতিক ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি অর্জিত হওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কূটনীতি

ইউরোপের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর ওয়াশিংটনের ওপরও এক ধরণের পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হলেও, তাদের নিজেদের পশ্চিমা মিত্ররাই এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এর ফলে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতেও বড় ধরণের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। মিত্রদের এই স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত মার্কিন একমুখী কূটনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, যা বিশ্ব ব্যবস্থার রূপান্তরে ফিলিস্তিনের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

 

৪ জুনের এই ঐতিহাসিক দিনটি প্রমাণ করল যে, শক্তির চেয়ে ন্যায়ের অধিকার সবসময়ই বেশি শক্তিশালী। আয়ারল্যান্ড, স্পেন ও নরওয়ের পর ইউরোপের আরও দুটি প্রভাবশালী দেশের এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ভিতকে আরও মজবুত করল। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মানুষের অধিকারের পক্ষে বিশ্ববিবেকের এক বিশাল জাগরণ। সকল বাধা বিপত্তি পেরিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের এই যাত্রা সফল হোক এবং এই কূটনৈতিক সাফল্য ধরে রেখে ফিলিস্তিনের প্রতিটি নাগরিক বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে বাঁচুক—আজকের এই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় জয়-এর দিনে এটাই হোক পুরো বিশ্ববাসীর কাম্য।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর