মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে এই আদেশ হয়। মামলার অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক। তাঁদের বিরুদ্ধে চব্বিশের আন্দোলনকারীদের হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, উসকানি, প্ররোচনা, সম্পৃক্ততা, অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে পৃথক সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম।
আর আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। গত ১৮ জানুয়ারি মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হলো।
গত বছর ১৮ ডিসেম্বর এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
শুনানির পর তা আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা কার্যকর হয়েছে কি না, সে বিষয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর পুলিশকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। সেদিন প্রতিবেদন দেখে আসামিদের হাজিরে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও আসামিরা হাজির না হওয়ায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি নেন ট্রাইব্যুনাল।







