ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরে বেতুয়া নদীবন্দর টার্মিনাল উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনছবি: সংগৃহীত
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত আধুনিক ‘বেতুয়া নদীবন্দর টার্মিনাল ভবন’ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ফিতা কেটে টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেন।
উদ্বোধনকালে এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমাদের নদীগুলো আমাদের ঐতিহ্যের বাহক ও জীবনের অংশ। নদীকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ভোলার প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই টার্মিনালের সুবিধা ভোগ করবে। এর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, মেঘনা নদী সাগরের অংশ হওয়ায় সাগর উত্তাল থাকলে এখানেও বিপদাপন্ন হয়। তাই সতর্কসংকেত চলাকালে নৌযান চলাচলে নিরাপত্তাবিধান মেনে চলতে হবে। ঢাকা-ভোলা-হাতিয়া নৌপথের খননকাজ চলমান, যাতে সারা বছর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা যায়। তবে এ নৌপথে লঞ্চ চলাচলের জন্য ‘বে-ক্রসিং’ সনদ লাগবে।
বিআইডব্লিউটিএর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান কমোডর আরিফ আহমেদ মোস্তফা, চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন, সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, নদীবন্দরের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
চরফ্যাশনের আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া নদীর পাড়ে নির্মিত এই তিনতলা টার্মিনাল ভবনটি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। ভবনটির আয়তন সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট, যা ৮ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত। এতে আছে ভিআইপি অপেক্ষা কক্ষ, রেস্তোরাঁ, আধুনিক স্যানিটেশন, বিশ্রামাগার, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার জন্য শক্তিশালী গ্যাংওয়ে।
এরপর বিকেলে উপদেষ্টা চরফ্যাশনের দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নে তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘গাছিরখাল লঞ্চঘাট’-এর পন্টুন স্থাপনকাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্মিতব্য এই ঘাটে প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ জন যাত্রী নিরাপদে নৌযানে উঠতে পারবেন।







