ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছেলে আশরাফুল ইসলামের (২৮) মৃত্যু সংবাদ শুনে কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান মা আছিয়া বেগম (৪৬)। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাবা রহিমউদ্দিন (৫৩) এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার নীলকুঠি গ্রামের মমতাময়ী এ ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের নীলকুঠি গ্রামের বাসিন্দা রহিমউদ্দিন আছিয়া দম্পতির এক মেয়ে দুই ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় আশরাফুল ইসলাম।
এইচএসসি পাস করার পর আর লেখাপড়া করা হয়নি। পরিবারের কষ্ট দূর করতে তিনি ঢাকায় গিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ওয়ার্ক অ্যাসিস্টেন্টের চাকরি নেন। প্রায় তিন বছর আগে বিয়ে করেন। তার আড়াই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
তার স্ত্রী-সন্তান নীলকুঠি গ্রামেই পরিবারের সাথে থাকতেন।
শুক্রবার ঢাকায় জুমার নামাজ পড়তে ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আশপাশের লোকজন তার দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুসংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
খবরটি শোনামাত্রই তার মা আছিয়া বেগম ছেলের নাম ধরে চিৎকার দিয়ে ওঠেন এবং মুহুর্তের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্বজনরা জানান, আছিয়া ছেলের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে পারেননি। তাই মৃত্যু সংবাদ শোনার অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে ঢাকায় ছেলের মৃত্যুসংবাদ এবং চোখের সামনে স্ত্রীকে হারানো আশরাফুলের বাবা রহিম উদ্দিনও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে স্থানীয় চিকিৎসকরা দ্রুত রংপুর মেডিক্যঅল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এখন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে আশরাফুলের চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারকে সাহায্য করতে ‘আশরাফুল ঢাকায় গিয়ে অনেক কষ্ট করে চাকরি যোগাড় করে। নিজের খরচ বাদে বেতনের পুরো টাকাই বাড়িতে পাঠাতো। ছেলের শোকেই তার মাও চলে গেলেন। একদিনে পুরো পরিবার সব হারাল।







