১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

জানাজা পড়ার নিয়ম-কানুন

জানাজা পড়ার নিয়ম-কানুন

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

প্রত্যেক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের কিছু অধিকার আছে। তার মধ্যে একটি হলো কোনো মুসলমান মারা গেলে তার জানাজায় অংশ নেওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি যে এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি—১. সালামের জবাব দেওয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া, ৩. জানাজার পশ্চাদানুসরণ করা, ৪. দাওয়াত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতাকে খুশি করা (আলহামদু লিল্লাহর জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা)। (বুখারি, হাদিস : ১২৪০)

এই কাজ আল্লাহর কাছে এতটাই প্রিয় যে এর মাধ্যমে বান্দা বিশাল সওয়াবের ভাণ্ডার অর্জন করতে পারে।

মহানবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জানাজার নামাজ আদায় করে এবং লাশের অনুসরণ করে না তার জন্য রয়েছে এক কিরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি লাশের অনুসরণ করে তার জন্য রয়েছে দুই কিরাত। কেউ জিজ্ঞেস করল ‘দুই কিরাত’ বলতে কী পরিমাণ বুঝায়? তিনি বললেন, এর ছোটটিও উহুদ পাহাড় সমতুল্য। (মুসলিম, হাদিস : ২০৮১)

তাই মুসলমানদের উচিত অপর কোনো মুসলমান মারা গেলে আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তার জানাজায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করা।

যেহেতু জানাজার নামাজ নিয়মিত পড়া হয় না, অনেকেই তার নিয়ম-কানুন মনে রাখতে পারে না। তাই নামাজে অংশগ্রহণের আগে, কারো কাছ থেকে জানাজার নামাজের নিয়ম-কানুনগুলো জেনে উচিত। নিম্নে জানাজার নামাজের নিয়ম-কানুন তুলে ধরা হলো—
নিয়ত করা : নিয়ত মুখে উচ্চারণ করে পড়া জরুরি নয়, মনে মনে করলেই ফরজ আদায় হয়ে যায়। জানাজার নামাজের ক্ষেত্রে এভাবে নিয়ত করা যেতে পারে যে জানাজার নামাজ ফরজে কেফায়া, চার তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায় করছি।

নামাজ আল্লাহর জন্য, দোয়া মাইয়্যেতের (মৃত ব্যক্তির) জন্য।

তাকবিরে তাহরিমা বলা : এরপর তাকবিরে তাহরিমা বলবে এবং কান পর্যন্ত হাত ওঠাবে।

ছানা পড়া : এরপর ছানা পড়বে। জানাজায় পঠিতব্য ছানা হলো—

سُبْحَا نَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَا لَى جَدُّكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَا اِلَهَ غَيْرُكَ

উচ্চারণ : সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক।

দরুদ শরিফ পড়া : এরপর তাকবির বলে দরুদ পাঠ করবে।

নামাজের শেষ বৈঠকে আমরা যে দরুদে ইবরাহিম পড়ি, সেটাই এখানে পড়বে। এই তাকবিরে হাত ওঠাবে না।
দোয়া পড়া : এরপর তৃতীয় তাকবির বলে মৃত ব্যক্তি ও মুসলমানদের জন্য দোয়া করবে। তখনো হাত ওঠাবে না। মৃত ব্যক্তি যদি সাবালক পুরুষ বা নারী হয় তাহলে এই দোয়া পড়া—

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلحَيِّنَاوَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا وَذَكَرِنَا وَاُنْثَا نَا اَللَّهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَاَحْيِهِ عَلَى الاِسْلاَمِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الاْيمَانِ بِرَحْمَتِكَ يَا ارْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাগফিরলি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা ওয়া ছগিরিনা ওয়া কাবিরিনা ওয়া জাকারিনা ওয়া উনছানা, আল্লাহুম্মা মান আহয়াইতাহু মিন্না ফাআহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত ও মৃতদের, উপস্থিত ও গায়েবদের, ছোট ও বড়দের এবং আমাদের নারী-পুরুষ সবাইকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপরই জীবিত রাখুন। যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সঙ্গেই মৃত্যু দিন। (তিরমিজি, হাদিস : ৯৪৫)

মৃত যদি ছেলেশিশু হয় তবে এই দোয়া পড়া,

اَللَّهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرْطًا وْاَجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَمُشَفَّعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মাজআলহা লানা ফারাতঁও ওয়াজআলহা লানা আজরাঁও ওয়া জুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিআতাঁও ওয়া মুশাফ্ফাআহ।

সালাম ফেরানো : তারপর চতুর্থ তাকবির বলে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করা। প্রথম তাকবির ছাড়া অন্য তাকবিরে হাত ওঠাবে না। (দারাকুতনী ১৮৫৩, ইবনে আবি শায়বা : ৩/২৯৫, সুনানে কুবরা, হাদিস : ৭২৩৮, ৭৪৩৩, দারা কুতনি, হাদিস : ১৮৫৩)

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর