১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

ত্বকের যত্নে তেল বনাম পেট্রোলিয়াম জেলি

ত্বকের যত্নে তেল বনাম পেট্রোলিয়াম জেলি

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

শীতে সব ধরনের ত্বকেই ব্যবহার করা যাবে পেট্রোলিয়াম জেলি

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে বহুকাল ধরেই পেট্রোলিয়াম জেলি বেশ জনপ্রিয়। কারও কারও জন্য তেলও কাজে আসে। তেল প্রাকৃতিক উপকরণ। পেট্রোলিয়াম জেলির চেয়ে তেলের পুরুত্ব কম। এই দুই উপকরণের ভালো–মন্দ দিক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

পেট্রোলিয়াম জেলি

পেট্রোলিয়াম জেলিতে থাকে মিনারেল অয়েল, মিনারেল বেজ অয়েল ও মিনারেল ওয়াক্স। এটি ত্বকের ওপর একটি পুরু স্তর তৈরি করে। ফলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। শুষ্ক ত্বকও থাকে প্রাণবন্ত। এই পুরু স্তরের জন্য ত্বকের স্বাভাবিক ছিদ্রগুলো আটকেও যায় না। তাই ব্রণজাতীয় সমস্যার ঝুঁকি থাকে না। অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

এটি কেবল প্রসাধনই নয়। ছোটখাটো ক্ষত সারাতেও সহায়ক পেট্রোলিয়াম জেলি। যেমন মশা কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানো হলে দ্রুত ক্ষত সেরে যায়। খুব বেশি রুক্ষ হয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়া ত্বকের জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি দারুণ কার্যকর। প্রয়োজনমাফিক ঠোঁটেও ব্যবহার করা যায় এই উপকরণ। রোগাক্রান্ত ত্বকেও এটি ব্যবহার করা যায়।

পা ফাটা রোধ করতে রাতে ঘুমানোর আগে ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন

গোসলের পর ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি প্রয়োগ করা উচিত। রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করাও প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার আগে লাগানো হলে ত্বক ঢেকে নেওয়া ভালো।

কেউ কেউ ভাবেন, পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারে মুখের ত্বক কালচে হয়ে যায়। এ ধারণা ভুল। সাদা পেট্রোলিয়াম জেলিতে এমন সমস্যা হয় না। অন্যান্য সুগন্ধি পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারের পর মুখ একটু কালচে দেখালেও তা সাময়িক। তা ছাড়া চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল বা কালচে ছোপ কমাতে রোজ রাতে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করাটা দারুণ এক উপায়।

তেল

ত্বককে আর্দ্র করে তুলতে পারে নানা রকম তেল। তা ছাড়া তেল আমাদের ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তেলে থাকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন ই। তেলের ভিটামিন ত্বকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। তবে সব তেলে সব উপকার মিলবে না।

তা ছাড়া রুক্ষ আবহাওয়ায় লম্বা সময়ের জন্য ত্বককে আর্দ্র রাখতে পারে না তেল। অবশ্য এ সময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে তেল ছাড়াও কোকোয়া বাটার কিংবা শিয়া বাটারের মতো প্রাকৃতিক উপকরণ দারুণ কাজে আসে।

ত্বককে আর্দ্র করে তুলতে পারে নানা রকম তেল

নারকেল তেল কারও কারও ক্ষেত্রে ব্রণজাতীয় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আরও মনে রাখতে হবে, শর্ষের তেল ব্যবহারে ত্বক রোদে কালচে হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আর এই তেল শিশুর কোমল ত্বকের উপযোগী নয়। ভার্জিন বা এক্সট্রা ভার্জিন জলপাই তেল শিশুর জন্য বেছে নিতে পারেন।

তাহলে কোনটি সেরা

বাজারে এখন বাড়তি পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ পেট্রোলিয়াম জেলি পাওয়া যায়। শীত মৌসুমে লম্বা সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলি সহজলভ্য এক উপকরণ, দামেও যা সাশ্রয়ী।

পরিবেশগত দিক বিবেচনায় কেউ কেউ পেট্রোলিয়াম জেলি এড়িয়ে যেতে চাইতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উদ্বৃত্ত হিসেবে উৎপাদিত হয় পেট্রোলিয়াম জেলি। তাই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার না করলেই যে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো হবে না, বিষয়টা সে রকম না।

আবহাওয়া এবং নিজের ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী ত্বকের আর্দ্রতার জন্য বেছে নিতে পারেন লাগসই প্রসাধন

তবে এ কথা অস্বীকার করারও উপায় নেই যে পেট্রোলিয়াম জেলি জলজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এটি ব্যবহারের পর ত্বকে পানি প্রয়োগের আগে টিস্যু পেপার দিয়ে ত্বক মুছে নেওয়া ভালো। একইভাবে পেট্রোলিয়াম জেলি কাপড়ে লেগে গেলে সেটি ধোয়ার আগেও টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে ফেলুন।

কেউ কেউ আবার তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি কোনোটাই সরাসরি ব্যবহার করতে চান না। তাঁরা প্রাকৃতিক কোনো তেলসমৃদ্ধ লোশন ব্যবহার করতে পারেন। এসব লোশন থেকে তেলের পুষ্টিও পাওয়া যায়। তবে শুষ্ক ত্বক এবং অতিসংবেদনশীল ত্বকের জন্য পেট্রোলিয়াম জেলিই সেরা।

অবশ্যই মনে রাখবেন, সব মৌসুমেই ত্বকের সজীবতার মূলকথা হলো ত্বকের আর্দ্রতা। আবহাওয়া এবং নিজের ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী ত্বকের আর্দ্রতার জন্য বেছে নিতে পারেন লাগসই প্রসাধন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর