১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি

বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি

 

বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি
বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি

উচ্চশিক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে প্রায়শই নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি তেমনই একটি সংবেদনশীল বিষয়ে দেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ছড়িয়ে পড়া সেই তথ্যটি ছিল—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বাংলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনার্স কোর্স বাতিল হতে যাচ্ছে। তবে এই তথ্যের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার বা যেকোনো বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। হুট করে কোনো ঐতিহ্যবাহী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনার্স পর্যায় থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কেন এই গুঞ্জনটি ছড়িয়েছিল, কর্তৃপক্ষ কী বলছে এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এই বিষয়গুলোর গুরুত্ব কতটা অপরিসীম।

গুঞ্জনের সূত্রপাত এবং শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

ডিজিটাল যুগে যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করেই শেয়ার করার প্রবণতা অনেক বেশি। একটি সুনির্দিষ্ট মহল থেকে ছড়ানো হয়েছিল যে, কর্মসংস্থানের অভাব এবং পাঠ্যক্রমের পরিবর্তনের অজুহাতে বাংলাসহ ছয়টি বিষয়ে অনার্স কোর্স বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়।

বিশেষ করে যারা বর্তমানে এই বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করছেন কিংবা ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার স্বপ্ন দেখছেন, তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিয়ে নানামুখী বিতর্ক শুরু হয়। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দ্রুত এই বিষয়ে বক্তব্য আসায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও স্পষ্টীকরণ

শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি দূর করতে এবং দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন যে, অনার্স কোর্স বন্ধ করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা তো দূরের কথা, এই নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো ধরনের সাধারণ আলোচনাও করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ফোরামে এই ধরনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনার্স কোর্স সংকোচনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

ছড়ানো তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সুতরাং এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি এবং শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সেই ছয়টি বিষয় এবং উচ্চশিক্ষায় তাদের অবদান

যে ছয়টি বিষয় নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, সেগুলোর প্রতিটিই আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনার সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিষয়গুলো হলো:

বাংলা: আমাদের মাতৃভাষা এবং সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।

 ইতিহাস: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বোঝার প্রধান মাধ্যম।

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি: সভ্যতার বিকাশ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য গবেষণার ক্ষেত্র।

দর্শন: মানুষের চিন্তাশক্তি এবং যৌক্তিক মনন গঠনের বিদ্যা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান: নাগরিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো বোঝার মাধ্যম।

সমাজবিজ্ঞান: সামাজিক সম্পর্ক, সমস্যা ও তার সমাধানের পথ খোঁজার বিজ্ঞান।

এই বিষয়গুলো কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান দেয় না, বরং একজন শিক্ষার্থীকে একজন সচেতন ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এই বিষয়গুলোর অনার্স কোর্স বন্ধ করার অর্থ হলো আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বুনিয়াদকে দুর্বল করে দেওয়া, যা কোনো সদ্বিবেচক শিক্ষাবিদ বা কর্তৃপক্ষ কখনো ভাবতেও পারেন না।

আরো পড়ুন :পাবনায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে দুজনকে হত্যা

কর্মসংস্থানের বাজারে এই বিষয়গুলোর প্রাসঙ্গিকতা

অনেকে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করেন যে, আধুনিক করপোরেট বিশ্বে বা প্রযুক্তিভিত্তিক বাজারে এই মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিষয়গুলোর চাহিদা কমে গেছে। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। কর্মসংস্থানের বাজারে এই বিষয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সরকারি চাকরি ও বিসিএস

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হলো বিসিএস। এই পরীক্ষার প্রিলিমিনারি এবং লিখিত উভয় ক্ষেত্রেই বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও দর্শনের মতো বিষয়গুলো থেকে বিশাল নম্বরের প্রশ্ন থাকে। ফলে এই বিষয়গুলোর শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকেন।

গবেষণা ও শিক্ষাকতা

দেশের হাজার হাজার কলেজ, হাইস্কুল এবং মাদ্রাসায় এই বিষয়গুলোর জন্য প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায় সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাসের শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।

গণমাধ্যম ও কনটেন্ট রাইটিং

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট তৈরি, সাংবাদিকতা, জনসংযোগ এবং সৃজনশীল লেখার ক্ষেত্রে বাংলা ও দর্শনের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভাষার সঠিক ব্যবহার এবং গভীর ভাবনাসমৃদ্ধ লেখার জন্য এই বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদের বিকল্প নেই।

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বনাম কোর্স বাতিল

শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বা যুগোপযোগী করার অর্থ এই নয় যে বিদ্যমান ঐতিহ্যবাহী কোর্সগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। বর্তমান সময়ে শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তারা কোর্স বাতিল না করে বরং পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

কারিগরি দক্ষতার সংযোজন: মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি এবং সফট স্কিলস বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

ব্যবহারিক শিক্ষা: তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ ও প্রজেক্ট ওয়ার্কের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি: বাংলা অনার্সের পাশাপাশি ইংরেজি ও অন্যান্য বিদেশি ভাষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে।

এই সংস্কারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কখনোই কোনো মূল বিষয় বাতিলের প্রশ্ন ওঠে না। তাই আবারও জোর দিয়ে বলা যায়, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের  দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

উচ্চশিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কারণে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিষয়গুলোর পরিধি আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে, সংকুচিত করার কোনো সুযোগ নেই। নীতিনির্ধারণী সাধারণ সভায় শিক্ষা সচিব স্পষ্ট করে বলেছেন যে, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিল বা বন্ধের কোনো আলোচনাই হয়নি।

যারা শিক্ষানীতি নিয়ে কাজ করেন, তারা খুব ভালো করেই জানেন যে এই বিষয়গুলো বাদ দিলে দেশের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কাঠামো ভেঙে পড়বে। বিভিন্ন কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় শিক্ষকেরা বারবার নিশ্চিত করেছেন যে, উচ্চপর্যায়ের কোনো ফোরামেই বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি। সুতরাং, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে বা গ্রুপে যে সমস্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে কোনো প্রশাসনিক সত্যতা নেই। দেশের প্রতিটি কলেজে এই কোর্সগুলো আগের নিয়মেই সচল থাকবে এবং নতুন সেশনেও নিয়মিত ভর্তি নেওয়া হবে, কারণ নীতিনির্ধারকদের টেবিলে বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো সংবেদনশীল খবর খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যার বড় একটি শিকার হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনার্স কোর্স বাতিলের এই মিথ্যা গুজবটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র মানসিক চাপ এবং হতাশা তৈরি হয়েছিল। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন সরকারি কলেজ প্রশাসন থেকে নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে যে, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভিউ এবং লাইক পাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু স্বার্থান্বেষী পেজ বা গ্রুপ এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বানোয়াট ভিডিও তৈরি করে ছড়ায়। শিক্ষা গবেষক ও মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের উচিত এই ধরনের সস্তা খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি শিক্ষকদের কাছ থেকে আসল সত্য জেনে নেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন  এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, প্রশাসনিকভাবে বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি। শিক্ষার্থীদের মানসিক শান্তি এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, কারণ বাস্তবে বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য ও মানবিক বিদ্যার প্রয়োজনীয়তা

বিশ্বের যেকোনো উন্নত দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা নিজেদের ভাষা, জাতীয় ইতিহাস এবং সমাজবিজ্ঞান চর্চাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ডের মতো বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সাহিত্য, দর্শন ও ইতিহাস বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশও এই আন্তর্জাতিক নিয়মের বাইরে নয়। আমাদের জাতীয় চেতনা, গৌরবময় ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে এই বিষয়গুলোর উচ্চশিক্ষা অপরিহার্য। এই মৌলিক কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে হলে মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা সমানভাবে প্রয়োজন। শিক্ষাবিদদের মতে, প্রযুক্তি আমাদের দক্ষতা দিতে পারে, কিন্তু মানবিক বিদ্যা আমাদের আদর্শ মানুষ হতে শেখায়। এই সত্যকে উপলব্ধি করেই উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারকেরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি। সুতরাং, আন্তর্জাতিক শিক্ষা কাঠামোর সাথে মিল রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ মেধা বিকাশের স্বার্থেই এই কোর্সগুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে দেশজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে, কারণ কোনো নীতিনির্ধারণী দলিলে বাংলাসহ ছয় বিষয়ে অনার্স বাতিলের কোনো আলোচনাই হয়নি।

 

একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলা আমাদের অস্তিত্বের স্মারক, আর ইতিহাস-দর্শন আমাদের পথ চলার গাইড। এই বিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে একটি মেধাভিত্তিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গঠন অসম্ভব।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর