২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারলো না বর, অতঃপর… 

বাসররাতে মুখ ধোয়ার পর কনেকে চিনতে পারলো না বর, অতঃপর… 

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত বছর ১ আগস্ট একটি বিয়ের পর ‘কনে বদল’ সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যা এখন আদালত ও কারাগারের মাধ্যমে বিচারাধীন রয়েছে।

বিবরণ অনুযায়ী, রায়হান কবির ও জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। তবে বাসররাতে বর রায়হান কবির অভিযোগ করেন, যাকে বিয়ের আগে দেখানো হয়েছিলো, বাসরঘরে আসা নববধূ সেই নারী নন। বর দাবি করেন, অতিরিক্ত মেকআপের আড়ালে কনে বদল করা হয়েছে এবং বিয়ের পরেই এ প্রতারণা বুঝতে পেরেছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে বরপক্ষ মেয়ের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করে ২৭ আগস্ট ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা করেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর কনের পরিবারও পাল্টা মামলা দায়ের করে।

বর রায়হান কবিরের মামা বাদল জানান, ঘটকের মাধ্যমে পাত্রী খোঁজা হয়েছিলো এবং মেয়েপক্ষ দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিয়ের রাতেই কনেকে চিনতে না পারার কারণে সমস্যা শুরু হয়। বর দাবি করেন, ঘটক ও মেয়ের বাবা এই প্রতারণার পরিকল্পনা করেছিলেন।

অন্যদিকে কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেজো মেয়েকে ছেলেপক্ষ বিয়ের আগে দেখেছে এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি উপস্থিত ছিল। তিনি বলেন, বিয়ের পর যৌতুক দাবি করা হয়, যা মিথ্যা অভিযোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অন্য কোনো মেয়ে দেখাননি এবং বিয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করেছে ছেলেপক্ষ।

ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন জানান, মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোন সমাধান হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং তারা আশা করেন, সঠিক সত্য উন্মোচিত হবে।

এ ঘটনা ঠাকুরগাঁও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং বিয়ের আনন্দ মুহূর্তকে সন্দেহ ও আইনি ঝামেলায় পরিণত করেছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন, তবে সম্প্রতি জামিন নামঞ্জুর হয়ে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর