ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের মামলা করার হুমকি দিয়েছেন। ২০২৪ সালে সম্প্রচারিত বিবিসির ফ্ল্যাগশিপ ডকুমেন্টারি ‘প্যানোরামা’তে ট্রাম্পের এক ভাষণ বিকৃতভাবে সম্পাদনা করার অভিযোগে এই মামলার হুমকি দিয়েছেন তিনি। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসিকে শুক্রবারের মধ্যে ওই ডকুমেন্টারিটি প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছেন, নতুবা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, তারা ট্রাম্পের আইনজীবীদের চিঠি পেয়েছে এবং যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বিবিসির দুই শীর্ষ কর্মকর্তা ডিরেক্টর জেনারেল টিম ডেভি এবং নিউজ সিইও ডেবোরাহ টারনেস পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগ আসে ডানপন্থী ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত একটি ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রকাশের পর।
প্রতিবেদনে একজন সাবেক বিবিসি স্ট্যান্ডার্ডস উপদেষ্টা বিবিসির সংবাদ কাভারেজে নানা ত্রুটির অভিযোগ তোলেন।
বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু, গাজা সংঘাত এবং ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল দাঙ্গা সংক্রান্ত ট্রাম্পের ভাষণের একটি সম্পাদিত সংস্করণ নিয়ে।
ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে লিখেছেন: ‘ধন্যবাদ টেলিগ্রাফকে এই দুর্নীতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের প্রকাশ করার জন্য। তারা অত্যন্ত অসৎ লোক, যারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চেয়েছিল। আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, তারা এমন একটি বিদেশি দেশ থেকে এসেছে যেটিকে অনেকে আমাদের প্রধান মিত্র বলে মনে করেন।
গণতন্ত্রের জন্য এটি এক ভয়ংকর বিষয়!’
বিবিসি প্রধান টিম ডেভির পদত্যাগের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি উদযাপন কেরেন। তিনি প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তার শনিবারের টেলিগ্রাফ সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও পোস্ট করে সেটিকে ‘শট’ ক্যাপশন দেন এবং ডেভির পদত্যাগ সংক্রান্ত বিবিসি প্রতিবেদনের লিঙ্ক পোস্ট করে ‘চেজার’ লেখেন — যা ইংরেজি ভাষায় একপ্রকার ব্যঙ্গাত্মক রসিকতা।
এর আগেই লেভিট টেলিগ্রাফে সাক্ষাৎকারে বিবিসিকে ‘১০০% ভুয়া সংবাদ মাধ্যম’ ও ‘প্রোপাগান্ডা মেশিন’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে সফরের সময় বিবিসির খবর দেখলে তার ‘দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়’ এবং ‘ব্রিটিশ জনগণকে বামপন্থী প্রচারণার জন্য কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
এই ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মিডিয়া ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংবাদ ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।







