ময়মনসিংহ-১১ আসনে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর ধানের শীষ আর মোর্শেদ আলমের হরিণ প্রতীকের মধ্যে চলছে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর। ভোটারদের মন জয়ে কে মারবেন শেষ হাসি? উত্তপ্ত ভালুকার ময়দান নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ভালুকা। বিশেষ করে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ভোটের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। এই আসনে লড়াই এখন দ্বিমুখী রূপ নিয়েছে—যেখানে জনপ্রিয় বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (ধানের শীষ) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলম (হরিণ)-এর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মাঠের লড়াই ও জনমত
নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর সমর্থকরাই দিন-রাত প্রচারণায় ব্যস্ত। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কে হবে ভালুকার পরবর্তী কাণ্ডারি?
ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু (ধানের শীষ): বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে তিনি দলের বিশাল ভোটব্যাংক এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের ওপর ভরসা রাখছেন। ভোটারদের অভিযোগ-অনুযোগ শুনে তিনি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে সম্প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তার জনপ্রিয়তায় তেমন ভাটা পড়েনি বলে দাবি সমর্থকদের।
মোর্শেদ আলম (হরিণ): অন্যদিকে, হরিণ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়া মোর্শেদ আলম এক বড় চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তার ব্যক্তি ইমেজ এবং তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে সমর্থন দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের মাঝে তার অবস্থান বেশ সুসংহত বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটের ফ্যাক্টর: কে এগিয়ে?
বিশ্লেষকদের মতে, ভালুকা আসনে এবার ভোটের ব্যবধান হবে খুবই সামান্য। কিছু প্রধান ফ্যাক্টর জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে:
তরুণ ভোটার: এই আসনে তরুণ ভোটারদের ঝোঁক যেদিকে থাকবে, পাল্লা সেদিকেই ভারী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
উন্নয়ন ইস্যু: শিল্পাঞ্চল হিসেবে ভালুকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বেকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের প্রভাবিত করছে।
শৃঙ্খলার রাজনীতি: ভোটাররা এবার শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের ওপর জোর দিচ্ছেন।
”আমরা চাই এমন একজন প্রতিনিধি যিনি আমাদের কথা শুনবেন এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। এবার লড়াইটা সত্যিই খুব কঠিন হবে।” — একজন স্থানীয় ভোটার।
ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দুই শিবিরের উত্তেজনা বাড়ছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের ঐতিহ্য জয়ী হয় নাকি হরিণ প্রতীকের নতুন চমক কাজ করে, তা দেখতে পুরো জেলাবাসী এখন নির্বাচনের অপেক্ষায়।







