২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে শ্রমবাজারের সর্বনাশ: ইউরোপের দরজা বন্ধের শঙ্কা, পাচারকারী চক্র সক্রিয়

ভুয়া ওয়ার্ক পারমিটে শ্রমবাজারের সর্বনাশ: ইউরোপের দরজা বন্ধের শঙ্কা, পাচারকারী চক্র সক্রিয়

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ঢাকা: প্রতারক চক্রের তৈরি ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশের জন্য ইউরোপের কয়েকটি দেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুরুতর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর মেসিডোনিয়া এবং সার্বিয়ার মতো দেশগুলোতে ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর ওয়ার্ক পারমিট জাল বা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এই জালিয়াতির ফলে ইতোমধ্যেই কিছু দেশ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছে।

ভিসা বাতিলের হার alarming
​কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, উত্তর মেসিডোনিয়া ও সার্বিয়ার দূতাবাসগুলোতে ভিসার জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওয়ার্ক পারমিট ভুয়া পাওয়া গেছে। এই দুটি দেশ গত দুই মাস ধরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোনো ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করছে না, তবুও নিয়মিতভাবে ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে ভিসার আবেদন আসছে। দূতাবাসগুলো সতর্ক করেছে যে, এই জালিয়াতি বন্ধ না হলে খুব দ্রুতই বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য ভিসা পুরোপুরি বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রতারক চক্রের কৌশল
​প্রতারক চক্রগুলো সুসংগঠিতভাবে এই জালিয়াতি চালাচ্ছে:
​ভুয়া পারমিট: প্রথমে তারা জাল ওয়ার্ক পারমিট তৈরি করে ভিসার আবেদন করে।
​নকল ভিসা স্টিকার: ভিসার আবেদন বাতিল হলে তারা নিজেরাই নকল স্টিকার ভিসা বানিয়ে পাসপোর্ট যুক্ত করে দেয়।
​স্মার্ট কার্ড জালিয়াতি: এই নকল ভিসার বিপরীতে কর্মীর জন্য বাংলাদেশ সরকার থেকে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করা হয়, যা বিদেশে বৈধভাবে গমনের জন্য আবশ্যক।
​পাচার: এরপর বিমানের টিকিট কেটে ভুক্তভোগী কর্মীদের ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও বিপদের মুখে পড়েন।


​কঠোর পদক্ষেপ
​এই গুরুতর পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্প্রতি উত্তর মেসিডোনিয়ার পুলিশ একটি বাংলাদেশি পাচারকারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছেছে।


কর্মীদের উপর প্রভাব
​এই জালিয়াতির কারণে একদিকে যেমন বৈধ উপায়ে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক হাজার হাজার বাংলাদেশি কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক শ্রমবাজারের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈধভাবে কাজ করতে যাওয়া কর্মীরাও সন্দেহের শিকার হচ্ছেন, এবং পাচার হওয়া কর্মীরা বিদেশে গিয়ে ভয়াবহ শোষণ ও নির্যাতনের মুখে পড়ছেন। অনেকে আবার সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।


পরবর্তী পদক্ষেপ
​শ্রমবাজারের এই সর্বনাশ ঠেকাতে, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এই প্রতারক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
​এই বিষয়ে আপনার অন্য কোনো প্রশ্ন থাকলে বা আপনি কি চান আমি জালিয়াতি প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে তথ্য খুঁজে দিই?

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর