২৬শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১২ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ক আলোচনা সভা

ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ক আলোচনা সভা

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ভোলায় বসুন্ধরা শুভসংঘের আয়োজনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও শিশুদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার উদ্যোগে দক্ষিণ মেদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ৪নং দক্ষিণ মেদুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুকসানা বেগম।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন সিয়ামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর আবিদ হোসেন রাফি, সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান, সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, আশরাফুন নাহার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক নুর ফাতেমা, কর্ম ও পরিকল্পনা সম্পাদক ইসরাত জাহান নুহা, প্রচার সম্পাদক মো. জিহাদ, অর্থ সম্পাদক সাফা ইসলাম,

যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আ. রহমান জামী, কার্যনির্বাহী সদস্য বিবি ফাতেমা, মুক্তা আক্তারসহ বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। 

বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।

এর কারণে শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ছে। একই সঙ্গে শিশুশ্রম, অপুষ্টি, স্বাস্থ্যঝুঁকি, মানসিক চাপ এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এসব সমস্যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান শিক্ষিকা রুকসানা বেগম বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি।

বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা ভোলা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বহন করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত হচ্ছে, যার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর।

বসুন্ধরা শুভসংঘ ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. শাফায়াত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্বে যেসব দেশের শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলোর একটি বাংলাদেশ। জলবায়ুজনিত সংকট শুধু শিশুদের স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমই ব্যাহত করে না, বরং এর কারণে শিশুদের মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বড় সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুদের, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার সুযোগ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে শিশুবিবাহের ঝুঁকির হারও।

তিনি আরো বলেন, ইউনিসেফের চিলড্রেন’স ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (শিশুদের জন্য জলবায়ু ঝুঁকি সূচক) অনুযায়ী, জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকটের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের শিশুরা।

আলোচনা সভায় পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি, নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ, প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।

অভিভাবকরা বসুন্ধরা শুভসংঘের এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, শিশুদের নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের আলোচনা সভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আলোচনা সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর