২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস কতটা ক্ষমতাশালী

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস কতটা ক্ষমতাশালী

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসফাইল ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে আটক দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মাদুরোর মতোই ক্ষমতাশালী। তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ আর মাদক পাচারের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রাখার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৫ সালে হাইতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার হাতে আটক হন তাঁর দুই ভাগনে এফ্রাইন কাম্পো ও ফ্রাঙ্কি ফ্লোরেস। নিজের হাতে বড় করা এই দুই ভাগনে নিউইয়র্কের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। তাঁদের বিরুদ্ধে ৮০০ কেজি কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের চেষ্টার অভিযোগ ছিল।

সিলিয়া ফ্লোরেস ‘ফার্স্ট লেডি’ তকমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি একে ‘বুর্জোয়া’ বিলাসিতা বলে মনে করেন। এর পরিবর্তে তিনি নিজেকে ‘প্রিমেরা কম্বাতিয়ান্তে’ বা ‘প্রথম যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। এ উপাধি কেবল প্রতীকী নয়; বরং একজন লড়াকু রাজনৈতিক অপারেটর হিসেবে তাঁর বাস্তব অবস্থানের প্রতিফলন। তিনি কখনোই কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে পর্দার আড়ালে ছিলেন না; বরং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনেক সময় জেনারেলদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা চর্চা করেছেন।

চাভেজের আইনজীবী থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে

মাদুরোকে বিয়ের অনেক আগেই সিলিয়া ফ্লোরেস ছিলেন হুগো চাভেজের প্রতিরক্ষা আইনজীবী। ১৯৯৪ সালে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর চাভেজকে কারাগার থেকে মুক্ত করার নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনি। তিনিই সেই আইনি কাঠামো তৈরি করেছিলেন, যা ব্যবহার করে ‘বলিভারিয়ান বিপ্লব’ ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকে ভেতর থেকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।

তিনি কখনোই কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে পর্দার আড়ালে ছিলেন না; বরং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে অনেক সময় জেনারেলদের চেয়েও বেশি ক্ষমতা চর্চা করেছেন।

সিলিয়া ফ্লোরেস নিজের যোগ্যতায় রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠেন। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার এক অদ্ভুত হাতবদল দেখা যায় মাদুরো ও তাঁর মধ্যে। তিনি অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্সি তুলে দেন মাদুরোর হাতে, পরবর্তী সময়ে মাদুরো দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিলিয়ার প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়। কয়েক দশক ধরে তাঁরা একে অপরের মধ্যে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার ভাগাভাগি করে আসছেন।

পারিবারিক ব্যবসা ও দ্বৈত শাসন

সিলিয়া ফ্লোরেস ফাইল ছবি: রয়টার্স

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই শাসনব্যবস্থাকে নিছক স্বৈরতন্ত্র নয়; বরং ‘দ্বৈত প্রেসিডেন্সি’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। মাদুরো যখন বহির্বিশ্বে সরকারের মুখ, সিলিয়া তখন নিয়ন্ত্রণ করতেন বিচার বিভাগ। সুপ্রিম কোর্ট, জাতীয় কোষাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে তিনি নিজের পরিবারের অন্তত ৪০ জন সদস্যকে বসিয়েছেন। কার্যত রাষ্ট্রকে তিনি একটি পারিবারিক ব্যবসায় পরিণত করেছিলেন।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সিলিয়ার ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ বিরল। যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে কেবল প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে নয়; বরং ভেনেজুয়েলার সম্পদ লুণ্ঠনকারী দুর্নীতিবাজ চক্রের অন্যতম ‘মূল হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

সিলিয়াকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? মাদুরোর পাশাপাশি সিলিয়াকে গ্রেপ্তারের পেছনে মূল কারণ সম্ভবত আর্থিক। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বিদেশের অফশোর অ্যাকাউন্টগুলোর চাবিকাঠি সিলিয়ার হাতে। অভিযোগ আছে, জেনারেলরা যখন মাদক চোরাচালান করতেন, সিলিয়া ও তাঁর সিন্ডিকেট সেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাচার ও সাদা করার কাজ তদারক করত। তাঁর আটকের ফলে তুরস্ক, রাশিয়া ও চীনে লুকিয়ে রাখা ভেনেজুয়েলার জাতীয় সম্পদের সন্ধান মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর