৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি, ঝরল দুই প্রাণ: চালক পলাতক

ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি, ঝরল দুই প্রাণ: চালক পলাতক

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ
ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ
ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ

রাজধানীর সড়কগুলোতে বাসের বেপরোয়া গতি ও রেষারেষি যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আজ ভোরে রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে দুই বাসের ভয়ংকর প্রতিযোগিতার ফলে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ এবং এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভোরের স্তব্ধতা ভেঙে রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা

আজ সোমবার ভোরে যখন নগরবাসী ঘুম থেকে জেগে উঠছে, ঠিক তখনই মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে সজোরে আছড়ে পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রাবাড়ী থেকে গুলিস্তানমুখী দুটি যাত্রীবাহী বাস একে অপরকে ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। ফ্লাইওভারে দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস আইল্যান্ডের ওপর উঠে যায় এবং অন্যটি সজোরে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এই ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

নিহত ও আহতদের বিবরণ

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থলেই দুইজন যাত্রী মারা যান। নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে তারা দুজনেই পুরুষ এবং কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, বাসের ভেতরে থাকা অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মূলত ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার পাশাপাশি আহতদের অনেকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

ঘাতক বাস জব্দ, চালকরা পলাতক

দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, রেষারেষিতে লিপ্ত থাকা ঘাতক বাস দুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপাররা দুর্ঘটনার পরেই কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ-এর পেছনে চালকদের চরম গাফিলতি ও ওভার স্পিডিং দায়ী। পলাতক চালকদের ধরতে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান

ফ্লাইওভারের ওপর থাকা এক সিএনজি চালক জানান, “আমি দেখলাম বাস দুটো একে অপরকে সাইড দিচ্ছিল না। ফ্লাইওভারের ঢালে এসে তারা আরও গতি বাড়িয়ে দেয়। হঠাত করেই একটি বাস ব্রেক করলে অন্যটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। চোখের সামনে ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ছিল।” যাত্রীরা চিৎকার করলেও চালকরা তাদের কথা শোনেনি বলে অভিযোগ করেছেন আহতরা।

ফ্লাইওভারে ট্রাফিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ

মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে প্রায়ই বাসের বেপরোয়া গতির খবর পাওয়া যায়। এখানে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ বা সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হচ্ছে না। আজকের এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো যে, গতির প্রতিযোগিতা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। মূলত এই ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার ঘটনায় ফ্লাইওভারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বাসের রেষারেষি ও ফিটনেস ইস্যু

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীর সড়কগুলোতে বাসের এই রেষারেষি বন্ধ না হওয়ার মূল কারণ হলো চালকদের চুক্তিতে গাড়ি চালানো। প্রতিটি ট্রিপ আগে দেওয়ার প্রতিযোগিতায় তারা জীবনের ঝুঁকি নেয়। আজকের ঘটনায় জব্দ হওয়া বাস দুটির ফিটনেস এবং চালকদের লাইসেন্স সঠিক ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত করছে বিআরটিএ। ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার ঘটনায় বাসের মালিকদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

পরিবারের আহাজারি ও শোকের ছায়া

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভিড় করছেন। তাদের আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। তারা জানিয়েছেন, জীবিকার তাগিদে সকালে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন তারা, কিন্তু ফিরছেন লাশ হয়ে। এই ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ কেবল দুটি মানুষের মৃত্যু নয়, দুটি পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মীরা জানিয়েছেন, ফ্লাইওভারের মতো জায়গায় যেখানে গতির কড়াকড়ি থাকা উচিত, সেখানে বাসের পাল্লা দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। আজকের ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এবং পলাতক চালকদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘাতক বাস দুটির বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও মামলার অগ্রগতি

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং চালকদের গতিবিধি শনাক্ত করতে পুলিশ ফ্লাইওভারে স্থাপিত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের ঢালে বাঁক নেওয়ার সময়ও বাস দুটির গতি সীমার অনেক উপরে ছিল। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার এই ঘটনায় বাসের মালিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে চালকদের বৈধ লাইসেন্স ছিল না, তবে মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বাসের রেষারেষি বন্ধে উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে ফ্লাইওভারের প্রবেশপথগুলোতে ‘স্পিড গান’ ব্যবহারের মাধ্যমে গতি পরিমাপের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন থেকে ওভারটেকিং বা লেন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে ভোরের দিকে যখন রাস্তা ফাঁকা থাকে, তখন পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আইন থাকলেও এর সঠিক প্রয়োগ না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। আজকের এই মর্মান্তিক ফ্লাইওভারে বাসের রেষারেষি ঝরল দুই প্রাণ হওয়ার ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতন করবে বলে আমরা আশা করি। পলাতক চালকদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত সড়কে এই বিশৃঙ্খলা থামবে না।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর