ঘর সাজানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর একটি হচ্ছে পর্দা। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও ব্যাবহারিক দিক—সব কিছুকে প্রভাবিত করে। তবে অনেক সময় ঘর সাজানোর সময় দ্বিধা তৈরি হয়—লম্বা পর্দা নেবেন নাকি ছোট?
সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে জানালার ধরন, আসবাবের অবস্থান এবং ঘরের প্রয়োজনের ওপর। তাই চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন অবস্থায় কোন পর্দা ব্যবহার করবেন।
কখন লম্বা পর্দা ব্যবহার করবেন
লম্বা পর্দা, যা মেঝে পর্যন্ত নামে বা মেঝেকে আলতো ছুঁয়ে থাকে, ঘরে আনে আভিজাত্য ও সৌন্দর্য এবং জায়গাকে দেখায় আরো উঁচু ও প্রশস্ত। এগুলো সাধারণত শোবার ঘর ও ড্রয়িং রুমের জন্য আদর্শ, বিশেষ করে যখন ছাদ উঁচু হয়।
লম্বা পর্দার সুবিধা
- ঘরের উচ্চতা ভিজ্যুয়ালি বড় দেখায়
- আনে বিলাসিতা ও সৌন্দর্য
- শীতকালে উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে
- বারান্দার দরজা বা মেঝে-থেকে-ছাদ জানালায় উপযুক্ত
স্থাপনের পরামর্শ
পরদার রড জানালার ফ্রেমের ১৫–২০ সেন্টিমিটার ওপরে এবং দুই পাশেই কিছুটা বেশি চওড়া করে লাগান। এতে ঘর বড় দেখাবে এবং পর্দা সরালে বেশি আলো ঢুকবে।
কখন ছোট পর্দা ভালো
ছোট পর্দা, যা জানালার কিনারা বা তার একটু নিচে থাকে, বেশি ব্যবহারিক সেসব জায়গায় যেখানে জানালার নিচে থাকে। যেমন—
- রেডিয়েটর
- রান্নাঘরের কাউন্টার
- ওয়ার্ক ডেস্ক
ছোট পর্দার সুবিধা
- রেডিয়েটরের তাপ আটকে রাখে না
- রক্ষণাবেক্ষণ ও ধোয়ার কাজ সহজ
- রান্নাঘর, বাচ্চাদের ঘর ও ছোট জায়গায় আদর্শ
- মেঝের কাছাকাছি না থাকায় ধুলো ধরে না
কাপড় নির্বাচনের টিপস : রান্নাঘরে হালকা ও বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় ব্যবহার করুন। আর যেখানে গোপনীয়তা জরুরি, সেখানে ঘন কাপড় ভালো।
দুই ধরনের সমন্বয়ও হতে পারে সেরা সমাধান।
কখনো কখনো সেরা ফল আসে সমন্বয় থেকে—যেমন রোলার বা ভেনেশিয়ান ব্লাইন্ডের সঙ্গে দুপাশে ড্রেপারি পর্দা। এতে একসঙ্গে কার্যকারিতা ও সৌন্দর্য পাওয়া যায়।
পেশাদার টিপস–পর্দা কেনার আগে বিবেচনা করুন
- ঘরের ছাদের উচ্চতা
- জানালা থেকে মেঝের দূরত্ব
- হিটার বা রেডিয়েটরের অবস্থান
- ঘরে কতটা প্রাকৃতিক আলো চাই
লম্বা পর্দা আনে আকর্ষণ, আভিজাত্য এবং ঘরকে দেখায় আরো বড়। আর ছোট পর্দা বেশি ব্যবহারিক এবং যত্ন নেওয়া সহজ। তাই কোনটি বেছে নেবেন—তা নির্ভর করে আপনি কোনটিকে বেশি মূল্য দেন—সৌন্দর্য নাকি ব্যবহারিকতা।
সূত্র : টেলিগ্রাফ







