২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

শীতকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড কবে?

শীতকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড কবে?

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বাংলাদেশে শীতকাল মূলত পৌষ ও মাঘ মাসে দীর্ঘ হয়। প্রাচীন এক প্রবাদে বলা হয়েছে, পৌষের শীত মোষের গায়, মাঘের শীতে বাঘ পালায়। অর্থাৎ পৌষে মোষ কাতর হয়, বাঘ তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকে, কিন্তু মাঘের শীতে বাঘও শীতমুখী হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে জানুয়ারি বাংলাদেশে বছরের সবচেয়ে ঠাণ্ডা মাস।
শীতের আগমন শুরু হয় পৌষের মাঝামাঝি (ডিসেম্বর-জানুয়ারি) থেকে। কখনও কখনও অগ্রহায়ণ (নভেম্বর-ডিসেম্বর) থেকেই শীতের ঠাণ্ডা বাতাস টের পাওয়া যায়। এ বছরের শীতও তার ব্যতিক্রম নয়। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা জীবনযাত্রাকে প্রায় বিপর্যস্ত করেছে।

ডিসেম্বরে টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখা মিলেনি। বিশেষ করে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা শহর ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। মানুষ মাথা থেকে পা পর্যন্ত শীতের কাপড়ে মোড়া থাকলেও মনে হয় নাকে-মুখে যেন ছোট পানির ফোঁটা পড়ছে। অনেকের কাছে এটি এমন মনে হয়েছে যেন তুষারপাত হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এটি ঘন কুয়াশার প্রভাব।

ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
বাংলাদেশে আবহাওয়ার পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের সময় থেকে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর বর্তমানে ৪৮টি স্টেশন পরিচালনা করছে। এ থেকে দেখা যায়, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একাধিকবার তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমেছে।

১৯৬৪ সালে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ৩.৩° সেলসিয়াস।
১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে রেকর্ড নেমে যায় ২.৮° সেলসিয়াসে।

স্বাধীনতা পরবর্তী সবচেয়ে নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়; ২.৬° সেলসিয়াস। একই বছরে সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ছিল ২.৯° সেলসিয়াস।

উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলা যেমন নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরেও তখন তাপমাত্রা ৩° সেলসিয়াসের আশেপাশে ছিল। এর আগে, ২০১৩ ও ২০০৩ সালে রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর ও রাজশাহীতে যথাক্রমে ৩°–৩.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

উত্তরাঞ্চলই সবসময় দেশের সবচেয়ে ঠাণ্ডা অঞ্চল। কারণ, শৈত্যপ্রবাহের প্রধান প্রবেশদ্বার হলো উত্তর ভারত, যা হিমালয় ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। এ বাতাস প্রথমে উত্তরাঞ্চলে পৌঁছায়, তাই সেখানে তাপমাত্রা সর্বনিম্ন থাকে।

শীতের তীব্রতার কারণ
আবহাওয়াবিদদের মতে, বাংলাদেশের তীব্র শীতের জন্য কয়েকটি কারণ গুরুত্বপূর্ণ:

১। কুয়াশা – ঘন কুয়াশা সূর্যের আলোকে মাটিতে পৌঁছতে দেয় না। তাই দিনের বেলাতেও তাপমাত্রা কম থাকে।

২। উচ্চচাপ বলয় – বঙ্গোপসাগরে উচ্চচাপ এলাকা তৈরি হলে শীতল বাতাস জোরে প্রবাহিত হয়।

৩। ওয়েস্টার্লি ডিসটার্বেন্স – পশ্চিম দিক থেকে আসা আবহাওয়াগত অস্থিরতা বাতাসের গতিবেগ বাড়ায় এবং কুয়াশা কমায়।

৪। রাত-দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য – উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপ দ্রুত বের হয়ে যায়, তাই শীত আরও তীব্র অনুভূত হয়।

৫। স্মগ ও দূষণ – ঘন কুয়াশার সঙ্গে দূষণের মিশ্রণ (জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা) চোখে ছোট পানির ফোঁটার মতো লাগে, যা প্রকৃত তুষার নয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫-এ দৃষ্টিতে মনে হয়েছিল পানি বা তুষার পড়ছে, কিন্তু এটি ছিল ঘন কুয়াশা ও স্মগের কারণে তৈরি ভারী মিস্ট।

শীতের পরিবর্তন ও জলবায়ু

বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, শীতের সময়কাল ক্রমে ছোট হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৯৫–২০০০ সালের আবহাওয়া উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীতের সময়কাল কমে গেছে এবং তুষারপাতও দেরিতে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশেও ১৯৭১–১৯৮০ সালের তুলনায় ২০০৭–২০১৬ সালে শীতকালের শুরু এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশ দূষণ এ পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুয়াশা বেশি থাকায় দিন-রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যায় এবং শীত বেশি অনুভূত হয়।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর