
জরুরি পাইপলাইন মেরামত ও টাই-ইন কাজের জন্য আগামী ১৭ মে ২০২৬ রোজ রবিবার রাত ১১টা থেকে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টা সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ থাকবে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত রিসোর্স অনুযায়ী, এই শাটডাউন আগামী ১৮ মে ২০২৬ রোজ সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
মূলত সঞ্চালন লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থেই সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার এই ঘোষণায় আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের আগেভাগেই বিকল্প ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি
তিতাসের দেওয়া অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সিস্টেমের জরুরি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের স্বার্থে এই সাময়িক শাটডাউন দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মে (রবিবার) রাত ১১টা বাজার সাথে সাথেই সংশ্লিষ্ট ফিডার লাইনের ভালভ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর টানা ১৮ ঘণ্টা সংস্কার কাজ চলবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ১৮ মে (সোমবার) বিকাল ৫টা থেকে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। মূলত কাজের পরিধি বড় হওয়ায় সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ রাখার এই সময়সীমা ১৮ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে
আমিন বাজার ডিআরএস হতে নবীনগর পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশের এলাকা, বলিয়ারপুর, কোন্ডা, হেমায়েতপুর, চামড়া শিল্পনগরী, সিংগাইর রোড, রাজ ফুলবাড়িয়া, নবীনগর, সাভার পৌর এলাকা, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, উলাইল, ব্যাংক টাউন, পুলিশ টাউন, সাভার রেডিও কলোনী, তালবাগ, আশুলিয়া বাজার, গৌরীপুর, চারাবাগ, কুমকুমারী, খাগান, আক্রাইন, রাজাশন, আউক পাড়া, দোসাইদ, কলমা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিদ্যমান সকল শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে এবং এর আশেপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে।
গ্রাহক ভোগান্তি ও আগাম প্রস্তুতি
যেহেতু সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম প্রধান গার্মেন্টস ও শিল্পাঞ্চল, তাই দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ থাকার কারণে টেক্সটাইল, ডাইং এবং অন্যান্য ওয়াশিং ফ্যাক্টরিগুলোর উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া আবাসিক গ্রাহকদের দুপুরের ও সকালের রান্নাবান্নার কাজে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাময়িক এই অনাকাঙ্ক্ষিত কষ্টের জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে গ্রাহকরা যাতে ১৭ মে রাত ১১টার আগেই তাদের রান্নাবান্না ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে রাখেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ নির্দিষ্ট সময়ে সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ হয়ে যাবে।
আরো পড়ুনঃ ঈদযাত্রায় ভোগান্তি
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কাজের উদ্দেশ্য
তিতাস গ্যাসের সাভার আঞ্চলিক বিপণন অফিসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “বর্ষা মৌসুমের আগে গ্যাসের মূল সঞ্চালন লাইনে কিছু কারিগরি ত্রুটি ও লিকেজ মেরামতের কাজ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই টাই-ইন এর কাজ করা হচ্ছে।” রবিবার রাতকে বেছে নেওয়ার মূল কারণ হলো, এই সময়ে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ব্যবহার কিছুটা কম থাকে, যার ফলে সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিনের বেলার তুলনায় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। তিতাস আরও জানিয়েছে, এই সংস্কার কাজ শেষ হলে পরবর্তী সময়ে গ্রাহকরা ভালো প্রেসার পাবেন এবং বারবার সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ করার প্রয়োজন হবে না।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা
১৭ মে রবিবার রাত ১১টা থেকে সিএনজি স্টেশনগুলোর গ্যাস সরবরাহও বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে সাভার, আশুলিয়া ও নবীনগর রুটে চলাচলকারী গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়িগুলো যাতে আগেভাগেই গ্যাস রিফিল করে নেয়, সেই ব্যাপারে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে অবহিত করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাজ শেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া
১৮ মে সোমবার বিকাল ৫টায় কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই লাইনে গ্যাস ছাড়া হবে। তবে তিতাসের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, পাইপলাইনের শেষ প্রান্তের গ্রাহকদের কাছে গ্যাসের পূর্ণ চাপ পৌঁছাতে আরও ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। লাইনে পুনরায় গ্যাস সরবরাহের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গ্রাহকদের নিজ নিজ চুলার চাবি বা ভালভ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় স্থবিরতার আশঙ্কা
টানা ১৮ ঘণ্টা সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ থাকার কারণে এই অঞ্চলের শত শত হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারির ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে কমার্শিয়াল লাইনগুলোর সংযোগ আগেভাগেই বিচ্ছিন্ন করা হবে। বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস বা লাকড়ির চুলা ব্যবহার করতে গিয়ে হোটেল মালিকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বাণিজ্যিক ক্ষতি সাময়িক হলেও পাইপলাইনের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
গ্যাস চালিত জেনারেটর ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত
আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোর একটি বড় অংশ নিজস্ব ক্যাপটিভ পাওয়ার বা গ্যাস চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল। ১৮ ঘণ্টা সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ থাকায় বিকল্প হিসেবে ভারী ডিজেল জেনারেটর চালাতে হবে, যা অনেক ব্যয়বহুল। কিছু কিছু ডাইং ও ওয়াশিং ফ্যাক্টরি এই সময়ে উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প মালিকদের সংগঠনগুলো জানিয়েছে, হুট করে এভাবে সাভার ও আশুলিয়ায় গ্যাস বন্ধ রাখার নোটিশে ইয়ার্ন এবং ফেব্রিক্স প্রসেসিংয়ের শিডিউল বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
গ্যাস লাইনের সংস্কার ও উন্নয়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার শাটডাউন জনসাধারণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলবে। তবে ভবিষ্যতের বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গ্যাসের অপচয় রুখতে এই মেরামত কাজ অত্যন্ত জরুরি। সাভার ও আশুলিয়ার সর্বস্তরের গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ করে তিতাস কর্তৃপক্ষের এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।







