দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও নানা স্বপ্ন নিয়ে একটি সেতু নির্মাণকে ঘিরে নতুন আশার জন্ম হয়েছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। তবে সেই আশা এখন চরম হতাশা ও ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের আব্বাসনগর বাজার হয়ে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সোমেশ্বরী নদীর ওপর চলছিল এই সেতুর কাজ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে নির্মাণাধীন সেতুটি এখন এলাকাবাসীর কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা এই সেতুর নির্মাণকাজের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। যাতায়াতের সুবিধার আশায় অনেকেই দোকান ভেঙে জায়গা দিয়েছেন, কেউ আবার বসতবাড়ি কিংবা ফসলি জমি ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ কাজ শেষ না হওয়ায় আগের মতোই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
সূত্র জানায়, ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে প্রায় ২৭ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু পিলার নির্মাণই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ শুরু করায় একদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে সেতু নির্মাণের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের নামে জমির মালিকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
কাজ শুরুর সময় থেকেই জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আনিস মিয়া বলেন, সেতু হলে আমাদের কষ্ট কমবে এই আশায় আমরা নিজ ইচ্ছায় জমি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেতুটিও পুরোপুরি হলো না, কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
আরেক বাসিন্দা বলেন, যে টাকায় এখানে সেতু হচ্ছে, সেই টাকায় আরো তিনটা সেতু হয়ে যেত। আমরা এখনো নৌকা আর বাঁশ-কাঠের সেতুতে চলাচল করছি। তাহলে এই বিশাল সেতু দিয়ে আমাদের লাভ কী হলো?
স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার আব্বাসী বলেন, দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের চলাচলের জন্য এই পথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ ঝুলে আছে। রোগী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ আমাদের সবাইকে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত কাজ শেষ করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হোক।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, সেতু নির্মাণের শুরুতেই কিছু জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে, যা বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি ।
অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাইড্রোলজি জরিপ সম্পন্ন করেই সেতুর নকশা প্রণয়ন ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সেই অনুযায়ীই কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।







