১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

দেশে মব কালচার প্রতিষ্ঠা করে গণজাগরণ মঞ্চ, ট্রাইব্যুনালে মাহমুদুর রহমান

দেশে মব কালচার প্রতিষ্ঠা করে গণজাগরণ মঞ্চ, ট্রাইব্যুনালে মাহমুদুর রহমান

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের পর বিরোধী প্রতিপক্ষকে দমনে মনোনিবেশ হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুরুতেই টার্গেট করা হয় ইসলামিক দলকে। এ পরিকল্পনামতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে বাংলাদেশে মব কালচার সৃষ্টি করা হয়। 

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার মামলায় আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের দেওয়া সাক্ষ্যে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

৪৬ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। মাহমুদুর রহমান বলেন, শাহবাগে প্রতিষ্ঠিত গণজাগরণ মঞ্চে বিচারের দাবির পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসি দেওয়ার জন্য সরকারের সহযোগিতায় বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের সব ফ্যাসিস্ট সরকারই জনগণকে উন্মাদনা করার জন্য একটি পাবলিক এনিমি কনসেপ্ট বা গণশত্রু তৈরি করে; যা ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই। হিটলারের জার্মানিতে প্রথমে কমিউনিস্ট ও পরবর্তীতে বিরোধী ঘরানার লোকদের এভাবেই গণশক্তি হিসেবে অবিহিত করে প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল। বাংলাদেশ একইভাবে ২০১৩ সালে শাহবাগে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নির্মূল করতে দিনের পর দিন বিক্ষোভের আয়োজন করে সরকার।

তিনি বলেন, শাহবাগের বিক্ষোভকারীদের নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে তৎকালীন সরকার। তাদের নির্দেশে সচিবালয় থেকে কর্মকর্তারা দাঁড়িয়ে ফাঁসির দাবিতে সমর্থন জানাতে বাধ্য হন। এমনকি সংসদে দাঁড়িয়ে শাহবাগী উদ্যোক্তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে তিনি মানসিকভাবে শাহবাগে থাকতেন। এছাড়া ভারতীয় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসে বলেন- প্রটোকল না আটকালে তিনি নিজেও শাহবাগে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করতেন। আর এতেই প্রমাণিত হয় যে শাহবাগের এই তথাকথিত আন্দোলনে ভারতের পূর্ণ সমর্থন ছিল।

এই সম্পাদক আরও বলেন, শাহবাগের উদ্যোক্তাদের ইসলাম বিদ্বেষী চেহারা প্রকাশিত হতে থাকলে এর প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপন হয়। গণজাগরণ মঞ্চে ফাঁসির দাবির বাইরেও যেসব গণমাধ্যম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বিবেচনায় ভিন্নমতের ব্যক্তিদের মালিকানাধীন; সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবিও জানান। ফলে ন্যায়বিচার না করে ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদের চরিত্র উন্মোচিত হয়। আর এসব নিয়ে দেশের মানুষকে প্রতিবেদনের মাধ্যমে সতর্ক করার চেষ্টা করে আমার দেশ। শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শিরোনামে সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বিপদ সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ।

এছাড়া জবানবন্দিতে আওয়ামী দুঃশাসনের পুরো চিত্র তুলে ধরেন মাহমুদুর রহমান। এদিন বেলা ১১টা ২০ মিনিট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত চলে। এরপর এক ঘণ্টার বিরতি দেওয়া হয়।

এদিকে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আর দু-একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েই কার্যক্রম শেষ করবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর