১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

‘হক’ চলচ্চিত্র নিয়ে বাংলাদেশে যে কারণে এত আলোচনা হচ্ছে

‘হক’ চলচ্চিত্র নিয়ে বাংলাদেশে যে কারণে এত আলোচনা হচ্ছে

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ভারত ছাপিয়ে এখন বাংলাদেশজুড়ে আলোচনায় ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত চলচ্চিত্র ‘হক’।  এই ছবিটি ৭ নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে ভারতসহ কয়েকটি দেশে। 

কিন্তু এর আগেই আইনি জটিলতায় পড়ে গেল ছবিটি।  শাহ বানু বেগমের উত্তরাধিকারীরা সিনেমাটির মুক্তির স্থগিতাদেশ চেয়ে ইন্দোর হাইকোর্টে রিট করেন।

পরিবারের অভিযোগ, ছবিটি মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুভূতিকে আঘাত করেছে এবং শরিয়া আইনকে অবমাননাকর ও নারীবিরোধী মনোভাব নিয়ে উপস্থাপন করেছে। তারা আরো দাবি করেছে যে ছবির নির্মাতারা শাহ বানু বেগমের জীবন বা গল্প চিত্রিত করার জন্য কোনো আইনি অনুমোদন বা উত্তরাধিকারীদের সম্মতি নেননি।

তবে গত ৪ নভেম্বর বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। বিতর্কিত সিনেমাটি সেন্সরে দেখার পর বিচারকরা এটি ‘আনকাট ভার্সন’ মুক্তি দেওয়ার কথা জানান।

ছবিটি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পেলেও এখন কেন আলোচনায়? কারণ এটি নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে। ফলে ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন বাংলাদেশের মানুষেরাও ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন। দেশের সামাজিক মাধ্যমে এই নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। 

কেন দেশজুড়ে এই ছবি নিয়ে আলোচনা? প্রথমত, এই ছবির সংলাপ।

এই চলচ্চিত্রে ইয়ামি গৌতম অভিনয় করেছেন সাজিয়া বানু চরিত্রে। যার বিয়ে হয় আব্বাস খানের সঙ্গে। আব্বাস খান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি। সাজিয়া বানুকে বিয়ের ৯ বছর পর, যখন তাদের ঘরে তিন সন্তান। পাকিস্তান গিয়ে আব্বাস খান আরেকটি বিয়ে করে নিয়ে আসেন।

যার সঙ্গে একসময় প্রেম ছিল আব্বাস খানের। 

আব্বাস বিয়ে করে আনার পর যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় সাজিয়া বানু বাবার বাড়ি চলে যান। সেসময় আব্বাস খান তিন সন্তানের ভরণপোষণের জন্য ৪২০ টাকা রুপি করে প্রতি মাসে পাঠাতেন। একসময় তা বন্ধ করে দিলে সাজিয়া বানু আইনের দ্বারস্থ। সে সময় আইনের দ্বারস্থ হওয়া একজন মুসলিম নারীর জন্য সহজ ছিল না, কিন্তু সাজিয়া বানুর পাশে ছিলেন তার বাবা। 

মুসলিম ল বোর্ড থেকে প্রতিকার না পেয়ে তিনি আইনের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কোর্ট তাকে আবার মুসলিম ল বোর্ডের কাছে পাঠান, আবার তিনি সেখানে প্রতিকার পাননি, বরং সাজিয়া ও তার বাবা সামাজিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। সাজিয়া এই মামলাকে সেশন কোর্ট, জজ কোর্ট, থেকে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যান। ছবির আগ্রহের প্রাণকেন্দ্র ছিল আদালত। কেননা আব্বাস খানও ছিলেন একজন প্রভাবশালী আইনজীবী। 

ছবির উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো, আব্বাস খান বলেন, আমি সওয়াবের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। এর জবাবে সাজিয়া বানু বলেন, আপনি সোয়াবের জন্য বিয়ে করেছেন? সোয়াবের জন্য তো আপনার জাকাত দেওয়া উচিত, রোজা রাখা উচিত, হজ করা উচিত আর আপনি বিয়ে বিয়ে করে সোয়াব অর্জন করতে চাইছেন? আপনাকে তো আমি ঠেলে নামাজেই পাঠাতে পারি না। 

আদালতে আরেকটি সংলাপ, সাজিয়া বানউ বলেন, ‘আমরা শুধু মুসলিম নারী নই, আমরা ভারতের মুসলিম নারী… এই মাটিতেই বড় হয়েছি, তাই আইন যেন আমাদেরও সেই চোখে দেখে, যেভাবে অন্য ভারতীয়দের দেখে।’ 

সাজিয়া বানুর লড়াই মূলত দর্শকদের আকৃষ্ট করছে। তাই ছবিটি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করতে ভুলছেন না।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর