১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন ১৯ জানুয়ারি

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার অভিযোগ গঠন ১৯ জানুয়ারি

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

বহুল আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় গ্রেপ্তারকৃত ২২ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। 

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা আদালতের বিচারক মো. জাহিদুল হক এজলাসে উঠে একে একে সব আসামির নাম ধরে হাজিরা নিশ্চিত করেন। তবে সার্বিক বিবেচনায় প্রধান আসামি ইসকন থেকে বহিষ্কৃত চিন্ময় দাশকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, যেহেতু আজ মামলার প্রথম তারিখ, তাই আদালতে নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে। সব আসামির উপস্থিতিতে আগামী ১৯ জানুয়ারি উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করা হবে।

এ সময় কয়েকজন আসামি আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের পক্ষে আইনজীবী ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের আইনজীবী নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে আইনানুগ সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করেন।

প্রয়োজনে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার কথাও আদালত উল্লেখ করেন।

আসামিদের উদ্দেশে বিচারক আরো বলেন, ‘এই পর্যায়ে আদালত কাউকেই চূড়ান্ত আসামি হিসেবে বিবেচনা করছে না; সবাই সাধারণ অভিযুক্ত। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলেই কেবল আসামি হিসেবে গণ্য হবেন।’

মামলার শুনানিকালে আদালতের বাইরে আসামিদের আত্মীয়স্বজনসহ বিপুল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।

তারা চত্বরে বিক্ষোভ করে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করা চেষ্টা করে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং অন্যান্যরা শান্ত থাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন থেকে বহিষ্কৃত চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময়কে কারাগারে নিয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা যানবাহন ভাঙচুর করে।

এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ২৯ নভেম্বর ২০২৪ নগরীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন। মামলায় ৩১ জনের নাম তুলে ধরে অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় সব আসামি ছিল নগরীর রঙ্গম কনভেনশন হল সংলগ্ন বান্ডেল সেবক কলোনির বাসিন্দা।

গত বছরের ১ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মাহফুজুর রহমান মোট ৩৯ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তাতে প্রধান আসামি করা হয় চিন্ময় দাসকে। পরে ২৫ আগস্ট চিন্ময়সহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদির উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত। এই ৩৯ জনের মধ্যে ১৬ জন আসামি পলাতক।

মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা বিচারের জন্য চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর