সংগৃহীত ছবি
বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির ডিজিটাল অধিকারকর্মীদের দাবি, ভবিষ্যতে কেবল নির্দিষ্ট লোকরাই বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
ইরানের ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফিল্টারওয়াচ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারকে সরকারি বিশেষ সুবিধায়’ পরিণত করার জন্য একটি গোপন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সংস্থাটি ইরানের ভেতরের একাধিক সূত্রের বরাতে বলেছে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মুখপাত্ররা ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন ২০২৬ সালের পর আর আগের মতো অবাধ ইন্টারনেট সুবিধা আর পাওয়া যাবে না।
ফিল্টারওয়াচের প্রধান আমির রাশিদি জানান, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী যারা নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাবেন বা সরকারের নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া পাস করবেন, কেবল তারাই ফিল্টার করা বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। বাকি জনগণকে ‘জাতীয় ইন্টারনেট’-এ সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
গত ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে কার্যত ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এর আগে টানা ১২ দিন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল।
এসব বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। কঠোর দমন–পীড়নের মুখে আন্দোলনের গতি কিছুটা কমলেও তথ্যপ্রবাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান এই ইন্টারনেট শাটডাউনকে ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও কঠোর বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিদির মতে, বর্তমান সীমিত ইন্টারনেট ব্যবস্থায় সরকার সন্তুষ্ট।
তাদের বিশ্বাস, এই শাটডাউন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান গত ১৬ বছর ধরে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করছে। এর একটি দিক হলো ‘হোয়াইটলিস্টিং’ ব্যবস্থা—যেখানে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারী বৈশ্বিক ইন্টারনেট পান, অন্যরা পান না।
এই প্রযুক্তির পেছনে চীনের সহায়তা থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রজেক্ট আইনিটা ও আউটলাইন ফাউন্ডেশনের গবেষকেরা। তাদের মতে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিডলবক্স’ নামের যন্ত্র ব্যবহার করে ইন্টারনেট ট্র্যাফিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে পুরো দেশের ব্যবহারকারীদের অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
এর পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় ইন্টারনেট—যা কেবল ইরানের ভেতর থেকেই ব্যবহারযোগ্য। এখানে সরকার নিয়ন্ত্রিত মেসেজিং অ্যাপ, সার্চ ইঞ্জিন, নেভিগেশন সেবা ও নেটফ্লিক্সের মতো একটি ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তবে পুরোপুরি নজরদারির আওতায় থাকা এই ব্যবস্থা বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন।
২০০৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রথমবার ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে ইরান। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে এই ‘জাতীয় ইন্টারনেট’ তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়।







