যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে একটি নির্মাণাধীন সড়ক উন্নয়নের কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি ভোরে সড়কের ইট তুলে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে। গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলা উলাশী ইউনিয়নের জিরেনগাছা গ্রামে নির্মাণাধীন সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জিরেনগাছা, কাশিয়াডাঙ্গা ও মাটিপুকুরিয়া গ্রামে ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তার করে আসছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সারুন অ্যান্ড সাফা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন জানান, জিরেনগাছা এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩ মিটার সড়কের হেরিংবাঁধাইয়ের কাজ করছিলেন তিনি।
গত ১৫ জানুয়ারি কাজ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু তার ছোট ভাইসহ কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এসে চাঁদা দাবি করেন। তাকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সড়কের ইট তুলে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয় সে।
ঠিকাদার আরো জানান, শুরুতে জমিসংক্রান্ত অজুহাত দেখালেও পরে সরাসরি কাজ বন্ধ করে শ্রমিকদের ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। চাঁদার দাবি না মানায় কাজ শেষের পরদিন ভোরে তিনি জানতে পারেন, নির্মিত সড়কের এক পাশের ইট তুলে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জিরেনগাছা গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে আছির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭৫০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর আগেই মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, এই সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। তখন রাজনৈতিক অজুহাত তুলে বলা হয়, সড়কটি হলে একটি নির্দিষ্ট পক্ষ সুবিধা পাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাবলুর নেতৃত্বে তার ছোট ভাই নবাব, মাটিপুকুরিয়ার সেলিমসহ আশপাশের গ্রামের ২০-২৫ জন যুবক নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি নিয়মিত চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছে। সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করতেও আগে তাদের ম্যানেজ করতে হয়। না হলে অনুষ্ঠান বন্ধ, হুমকি কিংবা হামলার ঘটনাও ঘটে।
জিরেনগাছা গ্রামের বাসিন্দা ও উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোমিনুর রহমান বলেন, ‘ডাবলু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, গাছ কেনার সময়ও জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১২ জানুয়ারি গ্রামে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও আগের রাতে ডেকোরেটরের মালামাল পৌঁছানোর পর অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় বাজার এলাকায় ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দেয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরমান হোসেন ওরফে ডাবলু। তিনি বলেন, ‘আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সড়ক নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বিরোধ ছিল। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।’
উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ডাবলু বিএনপির কর্মী হলেও তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি দলীয়ভাবে ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে।’
শার্শা থানা সূত্র জানায়, আরমান হোসেন ডাবলুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে। তবে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের এখতিয়ার।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







