ইসলাম শুধু বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশই দেয় না; বরং মানুষের চরিত্র ও আত্মিক পরিচ্ছন্নতার জন্য ক্ষুদ্র বলে মনে হওয়া গুনাহগুলোর ব্যাপারেও গভীর সতর্কতা অবলম্বনের শিক্ষা দেয়। অনেক সময় মানুষ ছোট গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে, অথচ সেগুলোই ধীরে ধীরে অন্তরকে কঠিন করে তোলে এবং আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এই বাস্তবতার দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রিয় স্ত্রী উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ উপদেশ দিয়ে বলেন—
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ : “ يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الأَعْمَالِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا ” .
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও।
কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২৪৩)
এই হাদিসের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহর বিচারে কোনো গুনাহই তুচ্ছ নয়। মানুষ যেসব গুনাহকে ‘ক্ষুদ্র’ মনে করে, সেগুলোও যদি অবহেলায় জমতে থাকে, তবে তা একসময় অন্তরের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয় এবং বড় গুনাহের পথ প্রশস্ত করে। কিয়ামতের দিন প্রতিটি কথা, কাজ ও নিয়তের হিসাব নেওয়া হবে; এই চেতনা মুমিনকে সদা সচেতন রাখে।
এ হাদিস মূলত আত্মসমালোচনা, লজ্জাবোধ ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন তাই শুধু প্রকাশ্য ও বড় গুনাহ নয়, গোপন ও ছোট বলে ধারণা করা ভুলগুলো থেকেও নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। কারণ যে ব্যক্তি ছোট গুনাহকে হালকা মনে করে, সে ধীরে ধীরে আল্লাহর ভয় হারিয়ে ফেলে; আর যে ব্যক্তি সেগুলো থেকেও সতর্ক থাকে, তার অন্তর আল্লাহভীতিতে জীবিত থাকে। এভাবেই ক্ষুদ্র গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা একজন মানুষকে আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও আল্লাহর নৈকট্যের পথে এগিয়ে নেয়।







