৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

লেবানন যুদ্ধ: স্কুলে হামলা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভয়ংকর সংশয়!নিয়ে নাবিহ বেরির বড় সংশয়

লেবানন যুদ্ধ: স্কুলে হামলা যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভয়ংকর সংশয়!নিয়ে নাবিহ বেরির বড় সংশয়

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
লেবাননে স্কুলে হামলা: যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভয়ংকর সংশয়!
লেবাননে স্কুলে হামলা: যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভয়ংকর সংশয়!
লেবাননে স্কুলে হামলা।  ছবি: সংগ্রহিত

লেবানন যুদ্ধ: ধর্মীয় স্কুলে ইসরায়েলি হামলা, যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয়ে স্পিকার নাবিহ বেরি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। গত কয়েক দিনের আপেক্ষিক শান্তির আশা ফিকে করে দিয়ে লেবাননে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ঘটনার পর লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি চলমান লেবানন যুদ্ধ বিরতি প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন।

 

ধর্মীয় স্কুলে হামলা: বাস্তুচ্যুতদের আর্তনাদ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত একটি ধর্মীয় স্কুলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রমতে, স্কুলটি বর্তমানে যুদ্ধের কারণে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, সেখানে হিজবুল্লাহর গোপন আস্তানা ছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই নির্মম ঘটনাটি লেবানন যুদ্ধ পরিস্থিতির এক ভয়াবহ রূপ নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে।

Lebanon War Crisis

নাবিহ বেরির কঠোর হুশিয়ারি ও সংশয়

লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যখন আমরা একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি, ঠিক তখনই এই ধরনের উস্কানিমূলক হামলা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল শান্তি চায় না।”

তার মতে, লেবানন যুদ্ধ থামানোর জন্য যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা চলছে, এই হামলা তা ভেস্তে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে। বেরি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আলোচনার টেবিলকে রক্তাক্ত করা হচ্ছে।

 

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কি ভেস্তে যাবে?

আমেরিকা এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি খসড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, উভয় পক্ষ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং ইসরায়েলের আগ্রাসী মনোভাব সেই চুক্তিকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। লেবানন যুদ্ধ অবসানের স্বপ্ন এখন ফিকে হতে বসেছে।

 

আরও পড়ুন: বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ: বুথফেরত জরিপে বিস্ফোরক চমক? উত্থানের ইঙ্গিত স্পষ্ট 3 গুণ বাড়ল জয়ের সম্ভাবনা

 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলাকে যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে অভিহিত করেছেন অনেক মানবাধিকার কর্মী। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

 

লেবানন যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপট

বর্তমানে লেবানন যুদ্ধ কেবল সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈরুত থেকে শুরু করে টায়ার শহর পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তাদের টার্গেট বিস্তৃত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় সাধারণ মানুষের জীবন এখন চরম সংকটে।

 

বিশ্লেষকদের মতামত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নাবিহ বেরির সংশয় অমূলক নয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, যখনই বড় কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানো হয়, তখনই এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। লেবানন যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হলে কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক সততা ও আন্তর্জাতিক চাপের বিকল্প নেই।

সারাংশ: লেবানন যুদ্ধ বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। ধর্মীয় স্কুলে হামলার ঘটনাটি নতুন করে সংঘাত উস্কে দিয়েছে। স্পিকার নাবিহ বেরির মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। যদি দ্রুত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

 

পরিশেষে বলা যায়, লেবানন যুদ্ধ থামাতে হলে ইসরায়েলকে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে হবে। ধর্মীয় স্কুলে হামলা কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, এটি শান্তি প্রক্রিয়ার পিঠে ছুরিকাঘাতের মতো। নাবিহ বেরির সংশয় যদি সত্য হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরা দুষ্কর হবে। আমরা কেবল আশা করতে পারি যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শুভবুদ্ধি উদয় হবে এবং সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরা বন্ধ হবে।

তথ্যসূর্ত: আলজাজিরার

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর