৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব: এখন রয়্যালটি পেমেন্ট অনুমোদন মিলবে মাত্র ৭ দিনে, ব্যবসায়ীদের বড় স্বস্তি

বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব: এখন রয়্যালটি পেমেন্ট অনুমোদন মিলবে মাত্র ৭ দিনে, ব্যবসায়ীদের বড় স্বস্তি

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব
বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব
বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব

বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিআইডিএ)। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে রয়্যালটি পেমেন্ট সার্ভিসকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান ও সহায়তা ফি পাঠানোর অনুমোদনের জন্য আর মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে না। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে মাত্র ৭ কার্যদিবসের মধ্যে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা একটি বড় সংস্কার হিসেবে দেখছেন।

দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তির নতুন দিগন্ত

আগে রয়্যালটি পেমেন্টের অনুমোদনের জন্য বিনিয়োগকারীদের বিডায় সশরীরে ফাইল জমা দিতে হতো এবং বিভিন্ন দপ্তরে ফাইলের অগ্রগতি জানতে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। অনেক সময় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় লেগে যেত। তবে বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর আওতায় এখন ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমেই সবকিছু অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং ঘরে বসেই ডিজিটালি অনুমোদনের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।

রয়্যালটি পেমেন্ট ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব

একটি দেশের শিল্পায়নের জন্য বিদেশি প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো যখন বাংলাদেশে তাদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করে বা নাম  ব্যবহার করতে দেয়, তখন তারা বিনিময়ে রয়্যালটি দাবি করে। এই অর্থ পরিশোধের অনুমোদন পেতে দেরি হলে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতো। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব এখন সেই বাধা দূর করেছে। মাত্র ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার নিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা সহজে ব্যবসা করার সূচকে বড় পরিবর্তন আনবে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আধুনিকায়ন

বিআইডিএ-র ওয়ান স্টপ সার্ভিস এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ডিজিটাল এই বিপ্লবের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ১১৫টি পরিষেবা অনলাইন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রয়্যালটি পেমেন্ট সার্ভিসটি এই তালিকার একটি অন্যতম সংযোজন। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব কেবল সময় বাঁচাবে না, এটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করবে। আবেদনের প্রতিটি ধাপ আবেদনকারী ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন।

ডিজিটাল বিপ্লবের ফলে দুর্নীতির পথ বন্ধ

কাগজপত্র জমা দেওয়া বা অনুমোদনের জন্য সরাসরি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে। অনলাইনে সরাসরি ট্র্যাকিং ব্যবস্থার কারণে কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখতে পারবেন না। এই অটোমেশন ব্যবস্থার মাধ্যমেই মূলত বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব সফল হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং তারা আরও বেশি পুঁজি বাংলাদেশে নিয়ে আসার উৎসাহ পাচ্ছেন।

আরো পড়ুনঃ বেসরকারি চাকরিজীবী আর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাজার কি আলাদা?

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার

ভারত, ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ডের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিতে হলে প্রযুক্তিগত এই উন্নয়ন অপরিহার্য ছিল। দ্রুত সময়ে রয়্যালটি রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ থাকলে বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে তাদের ইউনিট স্থাপন করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব তাই কেবল একটি দাপ্তরিক পরিবর্তন নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার অস্ত্র প্রদান করেছে।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুযোগ বৃদ্ধি

কেবল বিদেশি নয়, দেশি উদ্যোক্তারা যারা বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করছেন, তারাও এই সেবা থেকে উপকৃত হবেন। কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতির পাশাপাশি বিদেশি মেধাসম্পদ ব্যবহারের জন্য সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব সেই সংকটের সমাধান দিয়েছে। এখন দ্রুত অনুমোদনের ফলে ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

৭ দিনে অনুমোদন কীভাবে সম্ভব?

বিআইডিএ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদন আসার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেটি চলে যায়। নির্দিষ্ট চেকলিস্ট অনুযায়ী কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৭ দিনের মধ্যেই ডিজিটাল সিগনেচারের মাধ্যমে অনুমোদন পত্র ইস্যু করা হয়। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর এই গতির কারণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এখন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্মার্ট ইকোনমি

২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিটি দপ্তরে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, বিআইডিএ তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। রয়্যালটি পেমেন্টের পর অন্যান্য আর্থিক ও অ-আর্থিক পরিষেবাগুলোও একই গতিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর সুফল যেন প্রতিটি বিনিয়োগকারী পায়, সেজন্য একটি ডেডিকেটেড হেল্পডেস্কও কাজ করছে।

ডাটা এনালিটিক্স ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের পূর্বাভাস

নতুন এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে বিআইডিএ এখন রয়্যালটি পেমেন্টের ধরণ এবং কোন খাতে বিদেশি প্রযুক্তি বেশি আসছে, তার একটি নিখুঁত ডাটা বা পরিসংখ্যান রাখতে পারছে। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর এই কারিগরি সক্ষমতা সরকারকে নীতি নির্ধারণে সাহায্য করবে। কোন দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আসছে এবং কোন প্রযুক্তির চাহিদা বাংলাদেশে বেশি, তা এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে সহজেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এর ফলে আগামী দিনের বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশলগুলো আরও বিজ্ঞানসম্মত ও নির্ভুল হবে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সাথে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন

রয়্যালটি অনুমোদনের পর সেই অর্থ বিদেশে পাঠানোর জন্য ব্যাংকগুলোর সাথে সমন্বয় করা আগে বেশ জটিল ছিল। কিন্তু বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব-এর আওতায় এখন বিডার সিস্টেমের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। এর ফলে বিডা থেকে অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন পাবে, যা অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়াকে আরও কয়েক গুণ দ্রুততর করবে। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি এক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম হিসেবে কাজ করবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের বিনিয়োগ খাতে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। রয়্যালটি পেমেন্ট সার্ভিসের এই আধুনিকায়ন বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় মাইলফলক। বিআইডিএ-র ডিজিটাল বিপ্লব সফল হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ আরও বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য এই ৭ দিনের নিশ্চয়তা এখন আর স্বপ্ন নয়, বরং এক বাস্তব প্রাপ্তি।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর