৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন

ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন

 

ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন
ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন

দেশের বাজারে আবারও সুখবর পেলেন সাধারণ ক্রেতা এবং বিয়ে-শাদির কেনাকাটা করতে যাওয়া পরিবারগুলো। ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের এই নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের (বুলিয়ন) দাম কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর দাম ওঠানামা করা বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং উৎসব-কেন্দ্রিক কেনাকাটায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকের এই বিস্তারিত প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব ঠিক কী কারণে এই মূল্য পতন ঘটল, কোন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত টাকা কমলো এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এখনই স্বর্ণ কেনার সঠিক সময় কি না।

কেন এই মূল্য পতন? 

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণের একমাত্র বৈধ কর্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বা বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারে যখনই স্বর্ণের দাম বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসে, তার প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ে।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হওয়ার মূল কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস এবং দেশের বাজারে খাঁটি স্বর্ণ বা বুলিয়নের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়া। সাধারণত ঈদের উৎসবের সময় স্বর্ণের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যার ফলে দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। কিন্তু উৎসবের মৌসুম পার হতেই বাজারে চাহিদা কিছুটা কমে আসে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দাভাব দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হয়।

কোন ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত কমলো?

স্বর্ণের অলংকার কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা সাধারণত ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ বেছে নেন। বাজুসের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। নিচে বিস্তারিত হিসাব দেওয়া হলো:

২২ ক্যারেট স্বর্ণ

ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ২২ ক্যারেট স্বর্ণ। এই মানের স্বর্ণের অলংকারে স্থায়িত্ব এবং উজ্জ্বলতা দুটিই চমৎকার থাকে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আগের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা হ্রাস পেয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বিয়ের কেনাকাটা এখন কিছুটা সাশ্রয়ী হবে।

২১ ক্যারেট স্বর্ণ

২২ ক্যারেটের ঠিক পরেই বাজারে বেশি চলে ২১ ক্যারেট স্বর্ণ। সনাতন ও আধুনিক অলংকার তৈরিতে এর ব্যবহার ব্যাপক। এই মানের স্বর্ণের দামও প্রতি ভরিতে বড় অঙ্কে কমানো হয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের বাজেট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

 ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ

নতুন প্রজন্মের ক্রেতারা এবং যারা হালকা ডিজাইনের আধুনিক গহনা পছন্দ করেন, তারা ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ বেছে নেন। হীরা বা অন্যান্য মূল্যবান পাথর বসানোর জন্য এই স্বর্ণ অত্যন্ত উপযোগী। নতুন ঘোষণায় ১৮ ক্যারেটের দামও বেশ খানিকটা কমে এসেছে।

সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ

পুরনো বা সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ, যা সাধারণত পুনর্ব্যবহার বা নতুন করে গহনা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়, সেটির দামও সমানুপাতিক হারে কমানো হয়েছে।

দাম পরিবর্তনের তুলনামূলক চিত্র

বাজারের এই বড় পরিবর্তনের প্রকৃত চিত্র বুঝতে নিচে একটি আনুমানিক তালিকা দেওয়া হলো (মনে রাখবেন, বাজুস কর্তৃক ঘোষিত দৈনিক মূল্যের ওপর ভিত্তি করে অলংকার কেনার সময় এর সঙ্গে ভ্যাট ও মজুরি যুক্ত হবে)

২২ ক্যারেট: প্রতি ভরিতে বড় পতন এবং আকর্ষণীয় হ্রাস।

২১ ক্যারেট: আগের চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী ও নাগালের মধ্যে।

১৮ ক্যারেট: ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের জন্য দারুণ সুযোগ।

সনাতন পদ্ধতি: সর্বনিম্ন মূল্যের নতুন রেকর্ড।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাজুস নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট এবং জুয়েলারি দোকানগুলোর নিজস্ব মজুরি যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়। তাই গহনা কেনার আগে অবশ্যই শোরুম থেকে নিখুঁত হিসাব জেনে নেবেন।

আরো পড়ুন:দেশে শিশু নির্যাতন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও দেশীয় অর্থনীতি

বাংলাদেশি বাজারে স্বর্ণের দাম মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার।

সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে কিছুটা স্থিতি আসার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক প্রভাবের কারণেই দেশের বাজারে ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন সম্ভব হয়েছে। দেশের অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের দাম কমলে বাজারে তারল্য বাড়ে এবং মানুষ অলংকারের পাশাপাশি সঞ্চয়ের মাধ্যম হিসেবেও স্বর্ণ কিনতে উৎসাহিত হয়।

সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

এই মূল্য হ্রাসের ফলে দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্যণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার যারা ঈদের আগে চড়া দামের কারণে বিয়ের গহনা কেনা স্থগিত রেখেছিলেন, তারা এখন বাজারে ভিড় করছেন।

ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দাম অতিরিক্ত বেশি থাকলে বিক্রি কমে যায়, যার ফলে ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দাম কমে যাওয়ার ফলে বেচাবিক্রি আবার চাঙা হয়ে উঠবে এবং পুরো জুয়েলারি শিল্পে একটি ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে।

এখনই কি স্বর্ণ কেনার সেরা সময়?

স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগ করা বা গহনা কেনা সবসময়ই একটি বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত। যেহেতু ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে, তাই অনেক ক্রেতার মনেই প্রশ্ন জাগছে যে এখনই কি কেনার সঠিক সময়, নাকি দাম আরও কমবে?

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণের দামের পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যারা নিজেদের ব্যবহারের জন্য বা পরিবারের কোনো অনুষ্ঠানের জন্য গহনা কিনতে চান, তাদের জন্য বর্তমানের এই হ্রাসকৃত মূল্য একটি দারুণ সুযোগ। দাম অনেকখানি কমে যাওয়ায় এখন কিনলে বাজেটের মধ্যে অনেক ভালো মানের অলংকার পাওয়া সম্ভব।

স্বর্ণ কেনার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

দাম কমায় আপনি যখনই স্বর্ণ কিনতে যাবেন, কিছু জরুরি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার না হতে হয়

হলমার্ক যাচাই করুন: প্রতিটি আসল স্বর্ণের অলংকারে হলমার্ক বা ক্যারেটের সিল দেওয়া থাকে (যেমন ক্যারেট ২২ বা ২১)। গহনা কেনার সময় এটি অবশ্যই দেখে নেবেন।

পাকা রসিদ সংগ্রহ করুন: গহনা কেনার পর দোকান থেকে ক্যাশ মেমো বা পাকা রসিদ বুঝে নিন। সেখানে স্বর্ণের ওজন, ক্যারেট, আজকের দাম এবং মজুরি আলাদাভাবে লেখা থাকতে হবে। ভবিষ্যতে স্বর্ণ পরিবর্তন বা বিক্রি করতে এই রসিদ অত্যন্ত জরুরি।

মজুরি ও ভ্যাট সম্পর্কে জানুন: বাজুস নির্ধারিত দামের বাইরে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং দোকানভেদে ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হয়। কেনার সময় এই খরচগুলো আগেই হিসাব করে নিন।

বাজার নিয়ন্ত্রণে বাজুসের নতুন তদারকি ব্যবস্থা

দেশের বাজারে স্বর্ণের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যেন কেউ অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করতে না পারে, সেজন্য জুয়েলার্স সমিতি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করেছে। ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হওয়ার কারণে খুচরা বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারত। কিন্তু সঠিক সময়ে বাজুসের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ এবং কঠোর তদারকির ফলে সাধারণ ক্রেতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নতুন নির্ধারিত মূল্যে অলংকার কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।

মধ্যবিত্তের সঞ্চয় ভাবনায় নতুন সমীকরণ

সাধারণত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভবিষ্যতের নিরাপত্তা এবং কন্যাসন্তানের বিয়ের কথা চিন্তা করে অলংকারে বিনিয়োগ করে থাকে। হঠাৎ করে ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটায় এই শ্রেণির মানুষের সঞ্চয় পরিকল্পনায় একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। ব্যাংকে টাকা রাখার চেয়ে স্বর্ণ কিনে রাখা বেশি নিরাপদ মনে করায়, দাম কমার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন অলংকার কিনে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

জুয়েলারি শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

স্বর্ণের বাজারে যখন মন্দাভাব থাকে বা দাম অতিরিক্ত চড়া থাকে, তখন অলংকার তৈরির কারিগররা কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হওয়ার কারণে বাজারে গহনা তৈরির অর্ডার এক লাফে অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ ক্রেতাদের এই উপচে পড়া ভিড়ের কারণে ঝিমিয়ে পড়া জুয়েলারি কারখানাগুলো আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে, যা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো কারিগরের নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

গ্রাম ও শহরের বাজারে কেনাকাটার হিড়িক

সাধারণত স্বর্ণের দামের পরিবর্তন কেবল বড় শহরের শপিং মলগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এর প্রভাব পড়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। এবারের ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটার খবরটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানোর পর থেকে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর ব্যাপক সাড়া পড়েছে। মফস্বল ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জুয়েলারি দোকানগুলোতেও এখন ক্রেতাদের ভিড় আগের চেয়ে অনেক বেশি, যা প্রমাণ করে এই মূল্য হ্রাস গ্রামীণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও দারুণ স্বস্তি এনে দিয়েছে।

অনলাইন জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের বিক্রিতে নতুন রেকর্ড

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ই-কমার্স এবং ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনেকে স্বর্ণের অলংকার কেনাকাটা করছেন। দেশের বাজারে ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটার পর থেকে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে অর্ডারের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। অনেক নির্ভরযোগ্য অনলাইন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নতুন দামের পাশাপাশি মজুরির ওপর অতিরিক্ত ছাড় দিচ্ছে, যার ফলে ইন্টারনেটে অলংকার বিক্রির পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, ঈদের পর দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দামে বড় পতন দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে। উৎসবের বাড়তি খরচের পর এই মূল্য হ্রাস মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। আপনি যদি অলংকার কিনতে চান কিংবা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণ সঞ্চয় করতে চান, তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি আপনার অনুকূলে রয়েছে। প্রতিদিনের সঠিক ও হালনাগাদ দাম জানতে সবসময় বাজুসের অফিসিয়াল নির্দেশনার দিকে নজর রাখুন এবং বিশ্বস্ত জুয়েলার্স থেকে স্বর্ণ ক্রয় করুন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর