৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

ইরানের রাজধানী তেহরানে পানির মারাত্মক সংকট, ফুরিয়ে যেতে পারে দুই সপ্তাহে

ইরানের রাজধানী তেহরানে পানির মারাত্মক সংকট, ফুরিয়ে যেতে পারে দুই সপ্তাহে

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

তেহরানে সুপেয় পানির মূল উৎসের একটি আমির কবির জলাধারের পানি জুলাইয়ে এমন তলানিতে পৌঁছে যায়।



তীব্র খরার কবলে পড়েছে ইরানের রাজধানী তেহরান। শহরটির প্রধান পানির উৎসগুলোর একটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ার পথে, যা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, তেহরানের পানি সরবরাহ কোম্পানির পরিচালক বেহজাদ পারসা সতর্ক করে বলেন—আমির কবির বাঁধে বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি অবশিষ্ট আছে, যা বাঁধটির মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ। এই পরিমাণ পানি দিয়ে শহরের পানির চাহিদা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত মেটানো সম্ভব।

প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার তেহরান এখন কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরান প্রদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ শতভাগের কাছাকাছি হ্রাস পেয়েছে—যা গত এক শতাব্দীতে বিরল।

আমির কবির বাঁধ ছাড়াও তেহরানের পানি সরবরাহে ব্যবহৃত অন্যান্য জলাধারের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, শহরে প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রয়োজন হয়।

পানি সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বাধ্যতামূলক পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মকাল জুড়ে সেখানে বারবার পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি চালু ছিল। জুলাই-আগস্টে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় সরকার এমনকি দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়, যখন অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে যায়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, “যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, বাস্তবে পানিসংকট পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ।”

দেশটিতে ভূগর্ভস্থ সম্পদের অপব্যবহার, অতিরিক্ত পানি তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামগ্রিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর