৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস: জুনের শুরুতেই আসছে বর্ষা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস

তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস: জুনের শুরুতেই আসছে বর্ষা, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের পূর্বাভাস

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস
তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস
তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস

দেশজুড়ে অবশেষে মিলল তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস। মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে সারা দেশজুড়ে চলা ভ্যাপসা ও গুমোট গরমে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই দারুণ সুখবর দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ এক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, চলমান এই অস্বস্তিকর গরম ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির পর আগামী ৪ থেকে ৫ জুনের মধ্যে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা পুরোদমে প্রবেশ করতে পারে। একই সাথে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়া সচল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আবহাওয়া অফিস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মৌসুমি বায়ুর এই আগমনী বার্তা তপ্ত প্রকৃতির বুকে এবং সাধারণ মানুষের মনে নিয়ে এসেছে স্বস্তির হাওয়া।

মে মাসের গুমোট গরম ও বর্তমান আবহাওয়ার চিত্র

চলতি মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বেশিরভাগ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও ফিলস-লাইক (অন অনুভূত তাপমাত্রা) অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ তীব্র ঘাম ও গরমে নাজেহাল। যদিও বিকেলের দিকে দেশের কোথাও কোথাও কালবৈশাখী বা বজ্রবৃষ্টি হচ্ছে, তবে তা গরম কমাতে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। আজ আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গুমোট পরিস্থিতির অবসান ঘটতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। জুনের শুরুতেই মৌসুমি বায়ুর হাত ধরে দেশজুড়ে মিলবে তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস।

৪ থেকে ৫ জুনের মধ্যে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ৪ থেকে ৫ জুনের মধ্যে এই বায়ু বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে তথা উপকূলীয় অঞ্চলে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠবে। বর্ষা সক্রিয় হওয়ার সাথে সাথে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। দীর্ঘ খরা ও দাবদাহের পর এই বর্ষার বৃষ্টিই মূলত দেশের কোটি কোটি মানুষের জীবনে তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস বয়ে নিয়ে আসবে।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রক্রিয়া ও সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের আজকের বিশেষ বার্তায় দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেছে। বর্তমানে সাগরের তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এই লঘুচাপটি আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হতে শুরু করায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে গভীর পর্যবেক্ষণ ও সতর্ক সংকেত দেখানোর প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে এবং গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাগরে এই ঝড়ো হাওয়ার প্রকোপ বাড়লেও, স্থলভাগে এটি নিয়ে আসবে তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস।

আরো পড়ুনঃ বিশ্ববাজারে যাচ্ছে দেশের আম

কৃষি খাতে মৌসুমি বায়ুর ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি মূলত আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। আউশ ধান রোপণ এবং আমন ধানের বীজতলা তৈরির জন্য এই জুন মাসের বৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। মে মাসের তীব্র রোদে মাঠ-ঘাট ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ায় দেশের কৃষকেরা আমন চাষ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের এই সময়োপযোগী পূর্বাভাস দেশের প্রান্তিক চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সময়মতো বর্ষা আসার এই খবরটি কৃষি খাতের জন্য মূলত এক বড় ধরণের তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ফসলের ফলন ভালো করতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসকদের পরামর্শ

তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণে দেশজুড়ে ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক এবং পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি অসুস্থ হচ্ছিলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা শুরু হলে তাপমাত্রা কমে যাবে, যার ফলে গরমজনিত রোগবালাই অনেকটাই কমে আসবে। তবে বর্ষার শুরুর দিকে কাদার পানি ও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সামগ্রিকভাবে, তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য নিশ্চিতভাবেই তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস নিয়ে আসছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস

আজ সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে এই ২৪ ঘণ্টায় দেশের গড় তাপমাত্রা খুব একটা কমার সম্ভাবনা নেই। ভ্যাপসা গরমের এই শেষ কামড় সহ্য করার পরই দেশবাসী জুনের প্রথম সপ্তাহে উপভোগ করতে পারবে তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

২০২৬ সালের এই জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে আবহাওয়ার ধরণ অনেকটাই পরিবর্তনশীল। তাই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবার কৃত্রিম উপগ্রহ এবং আধুনিক রাডার প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপটির গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। যদি এটি কোনো ঘূর্ণিঝড় বা গভীর নিম্নচাপে রূপ নেয়, তবে উপকূলবাসীকে আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে লঘুচাপের প্রভাবে যে মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে, তা দেশের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস দিতে শুরু করবে।

 

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহের পর আষাঢ়ের মেঘ ও বৃষ্টি এসে পৃথিবীকে শান্ত করে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজকের এই বার্তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তীব্র রোদ আর গুমোট গরমের দিন এবার ফুরিয়ে আসছে। বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ এবং ৪-৫ জুনের মৌসুমি বায়ুর জোড়া প্রভাবে দেশজুড়ে যে নিয়মিত বর্ষণ শুরু হবে, তা জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। আমরা আশা করি, এই বর্ষার আগমন যেন কোনো আকস্মিক বন্যার কারণ না হয়ে, কেবলই আমাদের তপ্ত জীবনে এক দীর্ঘমেয়াদী তীব্র গরমের পর স্বস্তির আভাস হয়ে চিরকাল বিরাজ করে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর