১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের দামে বড় পতন

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তেলের দাম ১১ শতাংশ কমেছে।

ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এতে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বড় অংশ দ্রুত কমে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান ভবিষ্যতে আর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালী বন্ধ না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।

এই ঘোষণার প্রভাব পড়েছে তেলের বাজারে। শুক্রবার দুপুর ১২:৩৯ (EDT) পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০.৪২ ডলার বা ১০.৪৮ শতাংশ কমে ৮৮.৯৭ ডলারে নেমে আসে, যা দিনের সর্বনিম্ন ৮৬.০৯ ডলারে পৌঁছেছিল। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১১.৪৮ ডলার বা ১২.১২ শতাংশ কমে ৮৩.২১ ডলারে দাঁড়ায়, যা একপর্যায়ে ৮০.৫৬ ডলারে নেমে যায়।

উভয় সূচকই ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে এবং ৮ এপ্রিলের পর এটিই সবচেয়ে বড় দৈনিক দরপতনের পথে রয়েছে।

ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমছে

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গেলবার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস এক নোটে জানায়, গত দুই সপ্তাহে জমে ওঠা “চরম ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম এখন সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা নয়, বরং স্বাভাবিক সরবরাহ প্রবাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি

গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি তিন পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে পারে—এমন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির খবরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবে আলোচনায় এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তেহরান ২০ বছরেরও বেশি সময় পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

সামরিক অবরোধ বহাল

প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণার পরও ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অবরোধ বহাল রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ১০ হাজারেরও বেশি সেনাসদস্য নিয়ে এই অবরোধ কার্যকর আছে।

সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

এসইবি রিসার্চের বিশ্লেষক ওলে হভালবি বলেন, প্রণালী খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপের প্রধান তেলবন্দর রটারডামে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় ২১ দিন সময় লাগে।

অন্যদিকে পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক টমাস ভার্গা সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থায়ী চুক্তি না হলে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ভবিষ্যতে আবারও হরমুজ প্রণালীতে চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ঘোষণায় তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরেছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই স্থিতিশীলতা টেকসই হবে কিনা, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর