ট্রাম্প বলেন হরমুজ প্রণালী ইরান আর কখনো বন্ধ করবে না:
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়ে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর নিরাপত্তা ও চলাচল বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এখন “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত” এবং অবাধ নৌচলাচলের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান ভবিষ্যতে আর কখনো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করবে না।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চললে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত নৌপথ ধরে প্রণালীটি “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত” রাখা হয়েছে।
যুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপট
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান সাময়িকভাবে প্রণালীটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই উন্মুক্ত ঘোষণা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একে “বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন” বলে উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক অবরোধ এখনও বহাল থাকবে, যতক্ষণ না দুই দেশের মধ্যে সব বিষয় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরান ইতোমধ্যে বা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রণালীতে স্থাপিত সব সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করছে।
জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি “সঠিক পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ”।
শর্তসাপেক্ষ উন্মুক্ততা
তবে বিষয়টি পুরোপুরি শর্তহীন নয়। রয়টার্সের বরাতে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রণালী খুলে দেওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, সংঘাত পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি আবারও পরিবর্তিত হতে পারে।
ইরান আরও জানায়, একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে তাদের মিত্র সংগঠনগুলোর বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
পারমাণবিক ইস্যুতে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত সমঝোতা হয়নি এবং আরও গভীর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনীতি
ট্রাম্প এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি তিনি সমালোচনামূলক অবস্থান নেন এবং ন্যাটোকে “অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪০টি দেশ যৌথ সামরিক পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ
বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামী সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক সামরিক মিশনের বিস্তারিত পরিকল্পনা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অগ্রগতির ওপর।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই






