মামলার আসামি না হয়েও কারাগারে প্রবাসী নজরুল ইসলাম হাজারী।ছবি: নজরুলের ফেসবুক থেকে নেওয়া।
ফেনীতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে দুটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে থাকা প্রবাসী নজরুল ইসলাম হাজারী ওরফে সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। জামিন চেয়ে তাঁর করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন।
চলতি বছরের ১৭ জুন ফেনী থেকে নজরুল ইসলাম হাজারীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দুটি হত্যাচেষ্টা চালানোর অভিযোগে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে উচ্চ আদালতে জামিন চান তিনি। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট রুল দিয়ে ছয় মাসের জামিন দেন। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এর শুনানি ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেন। গত ১৫ অক্টোবর চেম্বার আদালত হাইকোর্টে এ–সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম হাজারীকে নিয়ে ১৬ অক্টোবর ‘আসামি না হয়েও জুলাই হত্যা মামলায় কারাগারে প্রবাসী, পাচ্ছেন না জামিন’ শিরোনামে প্রথম আলোর অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রুল শুনানিতে প্রতিবেদনটি হলফনামা আকারে দাখিল করেন আবেদনকারীর আইনজীবী। নজরুল ইসলাম হাজারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রুকসানা পারভীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেদওয়ান আহমেদ রানজিব, সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নুরুল হুদা ও মো. রেজাউল করিম।
দুই মামলায় জামিন হওয়ায় নজরুল ইসলাম হাজারীর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানান তাঁর আইনজীবী রুকসানা পারভীন। তিনি বলেন, নজরুল একজন প্রবাসী, গত বছরের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে আসেন। এরপর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাচেষ্টার অভিযোগের দুটি মামলায় নজরুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে রিয়াদ হিসেবে। অথচ প্রকৃত আসামি মো. নুরুল হুদা ওরফে রিয়াদ ফেনী পৌর যুবলীগের সহসম্পাদক। তাঁর বাবার নামের সঙ্গে নজরুলের বাবার নামের আংশিক মিল রয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে মামলাগুলোতে জড়ানো হয়।
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মহিউদ্দিন বাদী হয়ে ফেনী সদর মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। ওই মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহিপাল এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন মহিউদ্দিন। এ সময় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে মহিউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয় ১৫৫ জনকে। এজাহারভুক্ত ১৪ নম্বর আসামির নাম রিয়াদ (৩৪)। যার বাবার নাম মৃত আবুল খায়ের, ঠিকানা মাধ্যম ধলিয়া, ফেনী সদর।







