৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

বড়‌দিন উপল‌ক্ষ্যে দোহার-নবাবগঞ্জের ‌১৮ গ্রা‌মে সাজ সাজ রব

বড়‌দিন উপল‌ক্ষ্যে দোহার-নবাবগঞ্জের ‌১৮ গ্রা‌মে সাজ সাজ রব

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

রাজধানী ঢাকার পাশেই নবাবগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বসবাস চোখে পড়ার মতো। প্রায় আড়াই শ বছর আগে থেকে এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে খ্রিষ্ঠান সম্প্রদায়ের বসবাস। ১৭৭৭ সালে প্রথম গীর্জা প্রতিষ্ঠিত হয় হাসনাবাদে।
তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর)। আর মাত্র বাকি একদিন।

বড়দিনের প্রস্তুতি উপলক্ষ্যে দোহার নবাবগঞ্জের ১৮ পল্লীতে বইছে উৎসবের আমেজ। এ বছর বড়দিন উপলক্ষ্যে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গির্জা ও খ্রিষ্টান বাড়িগুলো যেন নতুন সাজে নবরুপে সেজে উঠছে।
প্রতিটি বাড়ির সামনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হচ্ছে। নান্দনিকভাবে সাজসজ্জার কাজ চলছে প্রতিটি পাড়া মহল্লা ও উপসনালয়ে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নশ্রীর বড় গোল্লায় ফ্রান্সিস জেভিয়ার গির্জাতে চলছে সাজসজ্জার কাজ। গীর্জার ভেতরে দৃষ্টি নন্দন কুঁড়েঘর নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন যিশুখ্রিষ্ট অনুসারিরা।
এলাকার তরুণ তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন তাদের বাড়ির উঠানে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। বড়দিন উপলক্ষে অতিথি আপ্যায়নের জন্য খ্রিষ্টান বাড়িগুলোতে তৈরি করা হচ্ছে রকমারি পিঠাপুলি ও পায়েসের। জন গমেজ গোল্লা গীর্জায় অনেক বছর ধরে সমাজকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, ধোয়া-মোছা, লাইটিংসহ সব ধরনের প্রস্তুতি শেষের পথে। উৎসবমুখর পরিবেশে এবার বড়দিন পালনে তারা চেষ্টা করবেন।
গোল্লা এলাকার বাসিন্দা টমাস রোজারিও বলেন, ‘গির্জাগুলোতে ২৪ ডিসেম্বর রাত ৯টা থেকে প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা থেকে লোকজন আসতে শুরু করবে। ২৫ ডিসেম্বর ভোর থেকে উৎসব শুরু হবে। সকাল ৯টায় প্রার্থনা সভার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।’

এদিকে, ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের শৌলপুরে ৪টি গির্জা ও তিনটি উপধর্ম উপাসনালয় রয়েছে। ১৮ গ্রামের খ্রিষ্ট পূর্ণার্থীদের জন্য গির্জা ও উপধর্ম উপসনালয় গুলোকে দৃষ্টিনন্দন ও ঝলমলে আলোকসজ্জায় সাজানোর কাজ চলছে। গির্জার ভেতরে দৃষ্টিনন্দন কুঁড়েঘর নির্মাণ করা হয়েছে। মাতা মেরির কোলে যিশুখ্রিষ্ট্রের মূর্তি শোভা পাচ্ছে।

ছোটগোল্লা কুরারবাড়ি এলাকার মিসেস অঞ্জনী বলেন, ‘বড়দিন উপলক্ষ্যে অতিথিদের আপ্যায়নে কয়েক দিন ধরেই কেক ও পিঠাপুলি তৈরি করছি। অনেক আত্মীয়স্বজন দেশ-বিদেশে ও ঢাকায় বসবাস করে। বড়দিনে উপলক্ষে আসেন বেড়াতে। সবাই মিলে বড়দিনের উৎসব আনন্দে কাটাবো। তাদের জন্য হরেক রকমের পিঠা পায়েস তৈরির
প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

বান্দুরা এলাকার জুলিয়ান গমেজ বলেন, ‘১৮ গ্রামের ৪টি গির্জায় মূল প্রার্থনা হবে। এর মধ্যে বান্দুরার হাসনাবাদ পবিত্র জপমালা রানির গির্জা, গোল্লায় সাধু ফ্রান্সিস জেভিযার গীর্জা, তুইতাল পবিত্র আত্মার গীর্জা, বক্সনগরের সাধু আন্তনীর গীর্জা। এছাড়া সোনাবাজু ফাতেমা রানী গীর্জা ও সিরাজদিখানের শৌলপুর গীর্জা উপধর্ম উপসনালয় হিসেবে প্রার্থনার কাজ চলবে।’

গোল্লা গির্জাকে ক্রিসমাস ট্রি রকমারি নকশার রঙিন কাগজ, জরি, চেইন, আলোকসজ্জা দিয়ে সাজানোর কাজ চলছে। নবরাজ খ্রিষ্টকে গ্রহণ করতে বড়দিনের ৯দিন আগে থেকে নভেনা খ্রিষ্ট যাগ বা পাপস্বীকার পর্ব চলছে। বড়দিনের কীর্তনের (ক্যারল) মধ্যে দিয়ে  তাঁদের এই উৎসব শেষ হবে।

এদিকে, বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানপল্লীর কাছে বান্দুরা বাজারে পোশাক দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়েছে। সাগরিকা

ফ্যাশনের মালিক বিকাশ বলেন, ‘প্রতিদিনই খ্রিষ্টান নারী পুরুষ শিশুদের নিয়ে নতুন কাপড় কিনতে দোকানে আসছে। তবে প্রতি বছরের ন্যায় এবার ব্যবসা মন্দা।’

বান্দুরা বাজারের ঐতিহ্যবাহী লরেন্স বেকারিতে নারী পুরুষের সারি লক্ষ্য করা যায়। অগ্রীম কেক ও বাহারী খাবারের বায়না দিচ্ছে। বেকারির মালিক আলবেনিয়া রোজারিও বলেন, ‘বড়দিনে অনেকেই এখন বাড়িতে পিঠাপুলির সঙ্গে নিজেরাই কেক তৈরি করেন। তারপরেও অনেকেই অর্ডার দিয়ে যাচ্ছে।’

বান্দুরার হাসনাবাদ জপমালা রানীর ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত অমিত গমেজ বলেন, ‘বড়দিনকে বরণে সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন হয়েছে।’

গোল্লা গির্জার পালপুরোহিত ফাদার গাবরিয়েল গমেজ বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। তবে দেশের পরিস্থিতিতে আমরা শংকিত। আশা করি সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম বলেন, ‘গির্জাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃংখলা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম বলেন, ‘বড়দিন পালনে  গির্জা ও আশপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সাথে সাদাপোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থাকবে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না।’

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর