বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এর নির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ৩টায় আয়োজিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।
মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, ‘আগামীকাল মঙ্গলবার জকসু আয়োজনের বিষয়ে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারের প্রতিনিধিসহ সকল সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচন আয়োজনে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বাহাদুর শাহ পার্কে পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।’
এর আগে জকসু বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সিন্ডিকেট সভা চালাকালীন প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীসহ স্বতন্ত্ররা।
প্রার্থীদের প্রত্যাশা, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচন। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়েই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের প্রচারণা ছিল জোরদার। নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি, তাদের সমস্যা শুনেছি এবং নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।
তবে নির্বাচন কমিশন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমাদের কিছুটা সংশয় রয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছি।’
ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী খাদিজাতুল কোবরা বলেন, ‘প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পেয়েছি। এখন একটাই প্রত্যাশা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরাপদ নির্বাচন।
অন্যান্য ক্যাম্পাসে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়েছে, তা কোনোভাবেই আমরা চাই না।’
জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী শাহীন মিয়া বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি। যেখানে গিয়েছি, শিক্ষার্থীরা বলেছে আমরা সবসময় ক্যাম্পাসের জন্য কাজ করেছি। সব মিলিয়ে আমরা আশাবাদী। আমরা সবসময়ই সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তবে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আমাদের বারবার হতাশ করেছে। আশা করি, নির্বাচনের দিন আগের সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সমর্থিত মওলানা ভাসানী ব্রিগেড প্যানেলের এজিএস পদপ্রার্থী শামসুল আলম মারুফ বলেন, ‘আমরা প্রচারণার জন্য খুব কম সময় পেয়েছি। এরপরও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি এবং নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী। তবে নির্বাচন কতটা ফেয়ার হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন।’
নিরাপদ এবং সঙ্কামুক্ত নির্বাচনের আশাবাদী শিক্ষার্থীরাও
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান মিয়া বলেন, ‘এটা আমার প্রথম ভোট। এজন্য অনেক বেশি উৎসুক। তবে এমন কোনো কিছু দেখতে চাই না যার মাধ্যমে নির্বাচন পরিবেশ নষ্ট হয়।’
আরেক শিক্ষার্থী সাহেদ সিজান বলেন, ‘যেকোনো নির্বাচনে সবসময় একটা ঝামেরা থাকেই। কিন্তু আমি এটা প্রত্যাশা রাখবো যে একটা সঙ্কামুক্ত নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপহার দেবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, ‘নির্বাচন উপলক্ষ্যে ৫ জানুয়ারি ও ৬ জানুয়ারি সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি না নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসে গাড়ি আনতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাবির মুখে ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।







