২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, তবে আলোচনার পথ খোলা

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, তবে আলোচনার পথ খোলা

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

ফাইল ছবি

ডিসেম্বরের শেষের দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে এখন পর্যন্ত শত শত বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। চলমান এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ইরান জানিয়েছে তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। একইসঙ্গে দেশটি আশা করে যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনাকে বেছে নেবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, যেটি তারা আগেও পরীক্ষা করেছে। আমরা এর জন্য প্রস্তুত। তবে, আমি আশা করি যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনাকে বেছে নেবে।

ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনছে তাদের সতর্ক করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছরের জুনে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ইরানের যে সামরিক প্রস্তুতি ছিল, বর্তমানে সেই প্রস্তুতি আরও বিশাল ও বিস্তৃত।

ইরানে চলমান হামলায় বিষয়ে তিনি বলেন, ইরানে আন্দোলনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে। যারা বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন দেশটির বহু শহরে ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হচ্ছে, ইরানের অর্থনীতি সংকটকে সামনে রেখে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই আন্দোলনকে সরকারের পতনের দিকে নিতে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিচ্ছে। 

বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠেও স্পষ্টভাবে সরকার পতনের ডাক উঠে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলেছে তারা। 

এমন অবস্থায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে চায়— এমন শক্তির সামনে ইরান কখনই মাথা নত করবে না।

খামেনির এমন হুঁশিয়ারিও কাজে আসেনি। আন্দোলনকারীরা সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দেয়। এমনকি নিজ দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে। এরপর কঠোর অবস্থানে যায় ইরান সরকার। গুলি করা হয় বিক্ষোভকারীদের ওপর, নিহত হয় শত শত মানুষ। একইসঙ্গে আন্দোলনকারীদের হামলায়ও প্রাণ গেছে শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যের।

ইরানের এমন কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তোমরা (ইরান) গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। একইসঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানে সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে অভিহিত করে বিক্ষোভকারীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাতের জন্য হামলার ইঙ্গিতও দিয়েছে দেশটি। 

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর