৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

/

তেল নিতে অনলাইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

তেল নিতে অনলাইন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক পেট্রোল পারাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অনেক পেট্রোল পাম্পে তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় কোথাও জ্বালানি পাওয়া গেলেও গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পরিবহন চালকরা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য একটি করে ইউনিক কিউআর কোড তৈরি করা হবে। ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট পাম্পকর্মী ওই কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। স্ক্যান করার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকের জ্বালানি গ্রহণের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হবে। ফলে কে কখন, কোথায় এবং কতটুকু জ্বালানি গ্রহণ করছেন—তা সহজেই নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ও মজুত করার প্রবণতা বেড়েছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। ডিজিটাল ফুয়েল পাস চালু হলে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ফিলিং স্টেশনগুলোতে অযথা ভিড় কমবে এবং সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যাবে।

প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম মোটরসাইকেল দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ব্যক্তিগত গাড়ি, গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহনকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।

অনলাইনে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

ডিজিটাল ফুয়েল পাস পেতে হলে প্রতিটি যানবাহনের মালিক বা ব্যবহারকারীকে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। এ জন্য জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে (fuelpass.gov.bd) প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে।

নিবন্ধনের শুরুতে ব্যবহারকারীকে তার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপর চ্যাসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এবং যানবাহনের উৎপাদনের বছর প্রদান করতে হবে। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর ‘যানবাহন যাচাই করুন’ অপশনে ক্লিক করলে সিস্টেম তথ্য যাচাই করবে।

তথ্য সঠিক হলে পরবর্তী ধাপে মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। এরপর মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) যাচাই করে একটি পাসওয়ার্ড সেট করলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

ড্যাশবোর্ডে মিলবে সব তথ্য

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যবহারকারী তার ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে পারবেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের জন্য নির্ধারিত কিউআর কোড, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদিত জ্বালানির পরিমাণ এবং পূর্বের জ্বালানি গ্রহণের ইতিহাস দেখা যাবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একজন ব্যবহারকারী কতটুকু জ্বালানি নিতে পারবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে আর জ্বালানি নেওয়া যাবে না। এর ফলে জ্বালানির অপচয় ও অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কমবে।

ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন

যদিও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুতের কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিজিটাল ফুয়েল পাস চালু হলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে যেমন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে, তেমনি সরকারের জন্য জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবহারের ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

তবে সেবাটি চালুর আগে ব্যবহারকারীদের আগেভাগে নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এতে নতুন ব্যবস্থা চালু হলে তারা দ্রুত এর সুবিধা নিতে পারবেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর