৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু, শুরু হলো পূর্ণ স্কেলের কার্যক্রম

বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু, শুরু হলো পূর্ণ স্কেলের কার্যক্রম

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু

 

ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু
ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলো  আবারও তাদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা কেন্দ্রগুলোতে সব ধরণের ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার এই খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু ও বর্তমান পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কারণে ভারতীয় ভিসা প্রদান প্রক্রিয়ায় যে ধীরগতি বা সাময়িক স্থগিতাদেশ ছিল, তা এখন পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশন জানিয়েছে, এখন থেকে পর্যটন , চিকিৎসা , শিক্ষা  এবং ব্যবসায়িক ক্যাটাগরিসহ প্রায় সব ধরণের ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আবেদনকারীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অগ্রাধিকার পাচ্ছে মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসা

কার্যক্রম পূর্ণ মাত্রায় শুরু হলেও যারা জরুরি চিকিৎসার জন্য ভারত যেতে ইচ্ছুক, তাদের আবেদনগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। এছাড়া ভারতীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম দিনেই কেন্দ্রগুলোতে আবেদনকারীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় পদক্ষেপ

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু করা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের একটি বড় ইঙ্গিত। ভিসা ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ বাণিজ্য, পর্যটন এবং মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর এবং দ্রুত করার জন্য কারিগরি উন্নয়নও করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আগের মতোই অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়া যাবে। তবে জালিয়াতি রোধে দালাল চক্র থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে নির্ধারিত ফি ছাড়া অন্য কোনো লেনদেন না করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ও পর্যটনের প্রসার

বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে ভারত সবসময়ই জনপ্রিয় গন্তব্য। ভিসা জটিলতার কারণে গত কয়েক মাস ধরে পর্যটন শিল্পে যে স্থবিরতা ছিল, তা এখন কাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে শপিং, দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ এবং আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে যারা আগ্রহী, তারা এই পদক্ষেপে সবচেয়ে বেশি খুশি।

আরো পড়ুনঃ অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়া: মুদ্রাস্ফীতির চাপে দিশেহারা বাংলাদেশ

সার্ভার ও অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

দীর্ঘদিন পর ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার ফলে সার্ভারের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আইভিএসি  কর্তৃপক্ষ তাদের অনলাইন পোর্টাল এবং সার্ভারকে আরও উন্নত ও গতিশীল করেছে। এখন থেকে আবেদনকারীরা ওটিপি এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুক করতে পারবেন। জালিয়াতি রোধে প্রতিটি আবেদনের সাথে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

জরুরি সেবার জন্য ‘বিশেষ হেল্পডেস্ক’ স্থাপন

ভিসা আবেদনকারীদের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ হেল্পডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার পর অনেকেরই নথিপত্র বা ফি পরিশোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এই হেল্পডেস্কগুলো সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করছে। বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিক এবং যারা অনলাইনে দক্ষ নন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে কঠোর নজরদারি

অতীতে ভিসা প্রক্রিয়া ধীরগতির সুযোগে সক্রিয় হওয়া দালাল চক্রকে রুখতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। ভারতীয় হাইকমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো দালালের মাধ্যমে আবেদন করলে তা সরাসরি বাতিল হতে পারে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার পর প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এবং ভেতরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বৈধ উপায়ে নির্দিষ্ট ফির বিনিময়ে আবেদন নিশ্চিত করার জন্য মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা চালানো হচ্ছে।

বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে নতুন গতি

ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের বহু ব্যবসায়ী কাঁচামাল আমদানি এবং বাণিজ্যিক মিটিংয়ের জন্য ভারতে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। একইভাবে পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ ভারত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। এয়ারলাইন্স এবং বাস সার্ভিসগুলোও এই সিদ্ধান্তের পর তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

চিকিৎসা প্রত্যাশীদের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ সুবিধা

যদিও সব ধরণের ভিসার কার্যক্রম চলছে, তবে যারা ক্যান্সারের চিকিৎসা বা হার্ট সার্জারির মতো জটিল সমস্যার জন্য ভারত যেতে চান, তাদের জন্য ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। আবেদন করার ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যেই তাদের ভিসা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়ার এই মানবিক দিকটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরিশেষে, বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্র পুনরায় চালু হওয়া কেবল যাতায়াতের বিষয় নয়, এটি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আস্থারও প্রতীক। আশা করা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ভিসা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে এবং দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর