২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: রাষ্ট্রপতির বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণ

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: রাষ্ট্রপতির বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মৃতিচারণ

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী: রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধাঞ্জলি

ঢাকা: অবিভক্ত বাংলার প্রবাদপ্রতিম নেতা, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বিশেষ বাণীতে রাষ্ট্রপতি এই মহান নেতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অকুতোভয় সাহস এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এক প্রজ্ঞাবান ও অকুতোভয় জননেতা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে যথাযথভাবেই ‘বাংলার বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন একাধারে তুখোড় আইনজীবী, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ এবং সমাজ সংস্কারক। তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং রাজনৈতিক বিচক্ষণতা তৎকালীন উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

আরও পড়ুনঃ গাজা দখল ইস্যুতে মতবিরোধ, নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বরখাস্ত করলেন নেতানিয়াহু

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নেতৃত্ব

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে ফজলুল হকের সুদীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শেরেবাংলা তাঁর কর্মজীবনে বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন:

  • সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি (১৯১৬-১৯২১) হিসেবে নেতৃত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
  • কলকাতার প্রথম মুসলিম মেয়র (১৯৩৫) হিসেবে নগর প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনেন।
  • অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) হিসেবে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গণমানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন।
  • পরবর্তী সময়ে তিনি পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) এবং গভর্নরের (১৯৫৬-১৯৫৮) দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন।

কৃষক ও মেহনতি মানুষের ত্রাণকর্তা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শেরেবাংলা ছিলেন মূলত কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মেহনতি মানুষের নেতা। জমিদারী প্রথার যাতাকল থেকে কৃষক সমাজকে মুক্ত করতে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন।

  • কৃষক প্রজা পার্টি (১৯৩৬) এবং শ্রমিক-কৃষক দল (১৯৫৩) গঠনের মাধ্যমে তিনি অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন।
  • তাঁর গৃহীত পদক্ষেপের ফলেই বাংলার ঋণগ্রস্ত কৃষকরা ‘ঋণ সালিশি বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে মহাজনদের শোষণের হাত থেকে মুক্তি পায়।

স্বাধীন বাংলাদেশের রূপরেখা ও লাহোর প্রস্তাব

বাঙালির জাতিসত্তা গঠনে শেরেবাংলার অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ তাঁর উত্থাপিত ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই প্রস্তাবের মধ্যেই নিহিত ছিল আমাদের আত্মপরিচয়ের সন্ধান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও দীর্ঘ পথনির্দেশনা।

শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক সংস্কার

শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়—এটি শেরেবাংলা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। তাঁর শিক্ষা-দর্শন আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।

রাষ্ট্রপতির আহ্বান: সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ

পরিশেষে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন:

“শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবনাদর্শ, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দর্শন আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ করে আমরা যদি কৃষক-শ্রমিক তথা মেহনতি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করি, তবেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।”

শেরেবাংলার অবদানকে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বাংলাদেশ—এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীর সমাপ্তি টানেন।

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর