১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ■ ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

/

প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব

প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব

||

দৈনিক মাটির কণ্ঠ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব
প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব
প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব

প্রতি শলাকা সিগারেট ৩৫ টাকা! তামাকবিরোধী সংগঠনের নতুন প্রস্তাব

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে সিগারেটের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব পেশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। ১১ মে ২০২৬ তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো এই প্রস্তাব উত্থাপন করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

 

সিগারেটের দাম বাড়ানোর নতুন প্রস্তাবের প্রভাব

এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ সমাজকে ধূমপানের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা। তামাকবিরোধী কর্মীদের মতে, যদি সিগারেট দাম বাড়ানো হয়, তবে কয়েক লক্ষ তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। প্রস্তাবিত এই সিগারেট দাম কাঠামোটিকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে: নিম্ন, মাঝারি, উচ্চ এবং প্রিমিয়াম। বর্তমানে বাজারে সুলভ মূল্যে তামাকজাত পণ্য পাওয়ায় কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে, যা একমাত্র সিগারেটের দাম বাড়িয়েই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

২০২৬ সালের প্রস্তাবিত মূল্যস্তরসমূহ

  • প্রিমিয়াম স্তর: ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা করার প্রস্তাব। করসহ প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ৩৫ টাকা।
  • উচ্চ স্তর: ১০ শলাকার প্যাকেটের মূল্য ১৫০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম হবে ২৫.৪৫ টাকা।
  • মাঝারি ও নিম্ন স্তর: উভয় ক্ষেত্রে প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম হবে ১৭.০১ টাকা।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকার কেবল জনস্বাস্থ্যই রক্ষা করবে না, বরং তামাক খাত থেকে বিশাল অংকের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে সক্ষম হবে। সিগারেটের দাম বৃদ্ধির ফলে যে বাড়তি শুল্ক আদায় হবে, তা দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা যেতে পারে।

 

স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং কেন সিগারেটের দাম বাড়ানো জরুরি

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশে ক্যানসার এবং হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তামাক সেবন। যখন সিগরেটের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, তখন নিম্নবিত্ত মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ে। একটি সাহসী ও চাঞ্চল্যকর সিগারেটের দাম বৃদ্ধি মূলত একটি আর্থিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করবে, যা হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচাবে। প্রতিবার যখন সিগারেটের দাম বাড়ে, তখন জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপের পরিমাণ কমে আসে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনও সিগারেটের দাম বেশ কম। তামাকবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিবর্গ মনে করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে সিগারেটের দাম মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো সময়ের দাবি।

 

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সিগারেটের দাম পরিবর্তন

অনেকেই মনে করেন সিগারেটের দাম অনেক বেশি বেড়ে গেলে অবৈধ তামাকের ব্যবসা বাড়তে পারে। তবে এসইও এবং বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। উচ্চ সিগরেটের দাম থেকে প্রাপ্ত করের টাকা দিয়ে ক্যানসার হাসপাতাল এবং গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে সিগরেটের দাম অপরিবর্তিত রাখা মানে হলো পরোক্ষভাবে ধূমপানকে উৎসাহিত করা, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম ৩৫ টাকা হওয়ার খবরটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অধূমপায়ী এবং সচেতন নাগরিকরা এই সিগরেটের দাম প্রস্তাবকে সাধুবাদ জানালেও নিয়মিত ধূমপায়ীরা তাদের খরচ বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, যখনই সিগারেটের দাম বেড়েছে, তখনই তামাকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

ব্যবসায়ীরাও এই সিগারেটের দাম বৃদ্ধির ওপর কড়া নজর রাখছেন। খুচরা বিক্রেতাদের আশঙ্কা, উচ্চ সিগরেটের দাম বিক্রির পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী জনস্বাস্থ্যের সুফলের কাছে এই সাময়িক ব্যবসায়িক ক্ষতি নগণ্য।

 

প্রতি শলাকা সিগরেটের দাম ১৭ থেকে ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবটি বাংলাদেশের জন্য একটি সাহসী পদক্ষেপ। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার যদি এই প্রস্তাব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা হবে একটি উজ্জ্বল ও সুস্থ বাংলাদেশের দিকে বড় এক যাত্রা। আগামী বাজেটে সিগরেটের দাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

 

আরও পড়ুন: মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান: সিন্ডিকেট নির্মূলে কঠোর হুঁশিয়ারি

নিউজটি ‍শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলোতে চাপ দিন

আরো খবর