ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ও পটকা ফাটানো, নেশাগ্রস্ত আচরণ এবং উচ্চ শব্দে গান-বাজনার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীতে এক ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ রমনা থানা শাখা।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর রমনা থানাধীন ঐতিহাসিক রমনা পার্ক এলাকায় জনবহুল খোলা স্থানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি পথসভা ও সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন পোস্টার বহন করে আতশবাজি ও শব্দদূষণের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন।
পথসভায় বক্তারা বলেন, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের নামে নির্বিচারে ফানুস উড়ানো, আতশবাজি ও পটকা ফাটানোর ফলে পরিবেশ দূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়, যা ঘনবসতিপূর্ণ নগরজীবনে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা শিশু, বৃদ্ধ, হৃদরোগী ও অসুস্থ মানুষের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরো জানান, বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত শব্দ মানসিক চাপ, অনিদ্রা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এমনকি হৃদযন্ত্রের জটিলতার কারণও হতে পারে।
পাশাপাশি আতশবাজির তীব্র শব্দ ও আলো পশু-পাখির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক পাখি আতঙ্কে বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়, পথপ্রাণী আহত হয় এবং পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
এ ছাড়া নববর্ষের রাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে বেপরোয়া আচরণ সামাজিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায় বলেও বক্তারা সতর্ক করেন।
ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মিলটনের দিকনির্দেশনায় কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ রমনা থানা শাখার সভাপতি আশিক আহমেদ, সহসভাপতি রিয়া আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অতীন সাহা।
কর্মসূচিতে আরো উপস্থিত ছিলেন সহসাধারণ সম্পাদক শাহাদাত খান সাব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক সিয়াম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অপু হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সিমরান আফরোজ মাইশা, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক নাঈম, প্রচার সম্পাদক সজল, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক তন্নিমা এবং সদস্য তানজিলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
আয়োজকরা জানান, নতুন বছরকে আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও মানবিকভাবে উদযাপন করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তারা সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সচেতন সিদ্ধান্তই পারে একটি নিরাপদ শহর ও সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে। পরিবেশ ও জনস্বার্থে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।







